২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং তারকা খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে মাঠে রাখতে বেশ কিছু যুগান্তকারী নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা করল ফিফা ও ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড। নতুন নিয়মে ‘মুখ ঢেকে কথা বলা’র বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে, পাশাপাশি হলুদ কার্ডের শাস্তিতেও আনা হয়েছে বড় ছাড়।
নতুন নিয়মের সবচেয়ে চমকপ্রদ সংযোজন হল, মাঠে বিতর্কের সময় কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কথা বললে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। সম্প্রতি একাধিক হাই-প্রোফাইল ঘটনায় খেলোয়াড়রা ঠোঁট পড়া বা ভিএআর শনাক্তকরণ এড়াতে মুখ ঢেকে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে, যার জেরেই এই কড়া পদক্ষেপ।
এ বছরের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার ম্যাচে ভিনিসিউস জুনিয়র অভিযোগ করেছিলেন, জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি মুখ ঢেকে তাঁকে বর্ণবাদী গালি দিয়েছেন। কিন্তু প্রমাণ অপর্যাপ্ত হওয়ায় পূর্ণ শাস্তি সম্ভব হয়নি, যদিও শেষপর্যন্ত ২৪ এপ্রিল প্রেস্টিয়ানিকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই ঘটনাই রেফারিং ব্যবস্থার বড় একটি ফাঁকফোকর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এ ছাড়া ২০২৬ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে সেনেগাল দল রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে যেতে উদ্যত হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। নতুন নিয়মে এ ধরনের ঘটনায়ও সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে। আইএফএবি জানিয়েছে, মাঠে অসদাচরণকে যে ‘অদৃশ্যতার আবরণ’ আজ পর্যন্ত আড়াল করে রেখেছে, তা সম্পূর্ণ দূর করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।
হলুদ কার্ডের নিয়মে অবশ্য নমনীয় হয়েছে ফিফা। এত দিন নিয়ম ছিল, কোনো খেলোয়াড় একাধিক ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলে পরের ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তেন। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২ নামে একটি নতুন নকআউট পর্ব যোগ হওয়ায় ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে, ফলে সামান্য কারণে বুকিং হলে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মতো বড় ম্যাচ মিস করতে পারতেন। সেই সমস্যা এড়াতে ফিফা এবার দুটি পর্যায়ে হলুদ কার্ড মাফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রুপ পর্ব শেষ হলেই যাবতীয় হলুদ কার্ড বাতিল বলে গণ্য হবে, অর্থাৎ রাউন্ড অব ৩২ থেকে সবাই নতুন করে শুরু করবেন। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল শেষেও আরও একবার একইভাবে হলুদ কার্ড মাফ হবে, ফলে সেমিফাইনালে হলুদ কার্ড দেখলেও ফাইনালে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে না — লাল কার্ড না পেলে।
ফিফার মুখপাত্র বলেছেন, “এই পরিবর্তনগুলি সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলিতে সেরা খেলোয়াড়দের মাঠে রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।”
এর পাশাপাশি সময় নষ্ট রোধে থ্রো-ইন ও গোলকিকের জন্য দৃশ্যমান কাউন্টডাউন চালু হচ্ছে। বদলি খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হবে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে — নইলে দলকে পুরো এক মিনিট সক্রিয় খেলার সময় দশজন নিয়ে মাঠে কাটাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ফিফার এই নতুন নিয়মগুলি ফুটবলে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


