মালদা, বিশ্বজিৎ মন্ডলঃ আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর প্রায় কুড়ি দিন পর কবর দেহ তোলা হল এক নাবালিকা বধূর মৃতদেহ। ম্যাজিস্ট্রেট এবং রতুয়া থানার পুলিশের উপস্থিতিতে দেহ কবর থেকে তুলে পাঠানো হল ময়নাতদন্তে। সোমবার এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল মালদা রতুয়া থানা এলাকার এক গ্রামে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৬ বছরের এক কিশোরী পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। মৃতার মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই এক লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য তার মেয়ের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। অর্থের দাবি পূরণ করতে না পারায় মেয়েটির উপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হত বলে অভিযোগ।
এমনকি স্বামীর প্ররোচনায় দাদাশ্বশুরের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের।অভিযোগ, গত ১৮ মে আবারও এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে মৃতার মায়ের দাবি। এর কিছুক্ষণ পরেই ফোনে খবর আসে তার মেয়ে মারা গিয়েছে। শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে তিনি দেখেন, কবর দেওয়ার আগে মৃতদেহ স্নান করানো হচ্ছে। তার অভিযোগ, মেয়ের গলায় কালশিটের দাগ দেখতে পেলেও ভালোভাবে দেহ পরীক্ষা করার সুযোগ না দিয়েই দ্রুত কবর দিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার ১২ দিন পর, ৩১ মে, মৃতার মা রতুয়া থানায় স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির সাতজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতার দাদাশ্বশুরকে গ্রেফতার করে চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করে।চাঁচল মহকুমা আদালতের পকসো বিশেষ আদালতের বিচারক জয়শঙ্কর রায় অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মৃতদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করারও নির্দেশ দেন।
সোমবার আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে দেহ উত্তোলন করা হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং কবরস্থানের আশেপাশে বহু মানুষের ভিড় জমে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা, খুন নাকি অন্য কোনও ঘটনা—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


