যোগে গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের ঝিমুনি কাটল? প্রশ্ন

যোগের সনাতন দর্শন যেখানে অন্তরের জড়তা ও স্থবিরতা কাটানোর বার্তা দেয়, সেখানে এই রাষ্ট্রীয় সূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অলসতাকে ‘বিয়োগ’.....

যোগের সনাতন দর্শন যেখানে অন্তরের জড়তা ও স্থবিরতা কাটানোর বার্তা দেয়, সেখানে এই রাষ্ট্রীয় সূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অলসতাকে ‘বিয়োগ’ করার এক শৈল্পিক প্রয়াস চোখে পড়ল জেলাজুড়ে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সরকারি দফতরের চাকা ঘোরে অত্যন্ত ধীর গতিতে। কিন্তু এই বিশেষ দিনটিতে দেখা গেল এক ভিন্ন ছবি। সকালের আলো ফোটার আগেই আমলা থেকে শুরু করে ব্লক স্তরের আধিকারিকদের যোগাসনের ম্যাটে উপস্থিতি যেমন আক্ষরিক অর্থে তাঁদের প্রাত্যহিক ঘুমের রুটিনকে নাড়া দিয়েছে, তেমনই যেন এক ধাক্কায় নাড়া দিয়েছে দফতরের ঝিমিয়ে পড়া কাজের পরিবেশকেও।

 

প্রচারের আলোয় দিনভর কাজের যে সাময়িক ছন্দ ও সক্রিয়তা দৃশ্যমান হলো, তা কি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদী কোনো সুঅভ্যাসের ইঙ্গিত? নাকি সুসজ্জিত উৎসবের আলো নিভতেই এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বন্ধ হতেই শাসনযন্ত্র আবার তার চিরপরিচিত আমলাতান্ত্রিক প্রশান্তির চাদরটি মুড়ি দিয়ে চেনা ছন্দের শীতঘুমে ফিরে যাবে, সেটাই এখন দেখার। সচেতন মহলের মতে, যোগের অর্থ যুক্ত হওয়া; যদি এই দিবসের মাধ্যমে প্রশাসন সাধারণ মানুষের চাহিদার সঙ্গে প্রকৃত অর্থে যুক্ত হতে পারে, তবেই এই মহাজাগরণ সার্থক।

 

এই প্রচ্ছন্ন জাগরণ যেন সাময়িক আনুষ্ঠানিকতা ও একদিনের সংবাদ শিরোনামের ঊর্ধ্বে উঠে এক স্থায়ী প্রশাসনিক চেতনার জন্ম দেয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের সচেতন মহলে এখন সেই প্রত্যাশাই প্রবল। কারণ, শরীরচর্চার মাধ্যমে ফুসফুসের বাতাস ছাড়ার মতোই জরুরি হলো লাল ফিতের ফাইলগুলো জনস্বার্থে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া।

আরও পড়ুন