স্বাধীনতার রাতের জোড়া খুনে রাজ্য জুড়ে ‘কালা দিবস’ পালন কংগ্রেসের

স্বাধীনতা দিবসের রাতেই নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর.....

স্বাধীনতা দিবসের রাতেই নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর তীব্র হল। ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার রাজ্য জুড়ে ‘কালা দিবস’ পালনের ডাক দিল প্রদেশ কংগ্রেস। একই সঙ্গে হত্যার নেপথ্যে কারা এবং কী কারণে এই হামলা, তা জানতে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

 

শুভঙ্করের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী এবং সংখ্যালঘুদের কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “এই রাজ্যে সংখ্যালঘু এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের লড়াই চলবেই।” দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। হরনগর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা আনিসুর ছেলেকে নিয়ে স্টেশন থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। নাগাদি রেল আন্ডারপাসের কাছে একটি কালো স্করপিও তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ। গাড়ি থেকে নামানোর পর বাবা-ছেলের উপর গুলি চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগও উঠেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

 

আনিসুরের কংগ্রেস-যোগের পাশাপাশি প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও দলীয় সূত্রে উঠে এসেছে। ফলে হত্যার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের কেন্দ্রে। পুলিশ ইতিমধ্যে হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান জুব্বার শেখের স্ত্রী ফতেমা বিবি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সাহেব নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধান চলছে। তদন্তে হামলাকারীদের পিছনে কোনও ‘সুপারি কিলার’ ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও হামলার উদ্দেশ্য কিংবা কার নির্দেশে এই আক্রমণ, তা নিশ্চিত নয়। ফলে গ্রেফতারির পরেও তদন্তের মূল প্রশ্নগুলি অমীমাংসিত। এ দিকে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা নিয়েও পরিবারের দাবি সামনে এসেছে।

 

রবিবার সকালে দেহ দু’টি কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর হাসপাতালে আনা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে একই জায়গায় ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্তের দাবি জানানো হয়। পরে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে দু’টি পরীক্ষার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। অধীরও হত্যার নিন্দা করেছেন। স্বাধীনতা দিবসের রাতেই এমন হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন তিনি। ফলে নাকাশিপাড়ার জোড়া খুন এখন শুধু একটি অপরাধের তদন্ত নয়। অপরাধের নেপথ্য কারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগের অভিযোগও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। পুলিশের তদন্তের ফলের উপরেই নির্ভর করবে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ছবি কতটা স্পষ্ট হয়।

আরও পড়ুন