উৎসবের আগে বাংলায় ফের ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

ভোট মিটেছে কয়েক মাস আগে। তার পরেও বাংলার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফের বাড়ল কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিদ্ধান্তে নতুন.....

ভোট মিটেছে কয়েক মাস আগে। তার পরেও বাংলার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফের বাড়ল কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিদ্ধান্তে নতুন করে ৫০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কোম্পানিতে। প্রশাসনের ব্যাখ্যা, সামনে উৎসবের মরসুম এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি—এই দুই বিষয় মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। ভোটের সময় যে বিপুল বাহিনী রাজ্যে এসেছিল, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে তার একটি অংশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বেশ কিছু কোম্পানি থেকে গিয়েছিল। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এক সময়ে প্রায় ১৫০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে রাখা হয়েছিল।

 

পরে তার মধ্যে আরও ১০০ কোম্পানি সরিয়ে নেওয়া হয়। সেই জায়গাতেই নতুন করে ৫০ কোম্পানি যুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তা কাঠামোয় ফের বড়সড় উপস্থিতি তৈরি হল। নতুন বাহিনীর মধ্যে বিএসএফ, সিআরপিএফ এবং এসএসবি-র সদস্যরা রয়েছেন। রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁদের কাজ করার কথা। টহল, স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত বাহিনী মোতায়েন—মূলত এই দায়িত্বেই তাঁদের ব্যবহার করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্যই আসন্ন উৎসব। দুর্গাপুজো সামনে রেখে কলকাতা এবং জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপ, বাজার, ধর্মীয় স্থান, পরিবহণকেন্দ্র এবং অন্যান্য জনবহুল এলাকায় ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে শুধুমাত্র রাজ্য পুলিশের উপর নির্ভর না করে অতিরিক্ত বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন শেষ হওয়ার এত দিন পরেও কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন পড়ছে? প্রশাসনের বক্তব্য, “এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও বিষয় নেই। জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই লক্ষ্য।” অন্যদিকে, ভোট-পরবর্তী সময়ে কোনও এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে উৎসবের নিরাপত্তা এবং ভোট-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা—দুই প্রয়োজন মিলিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই নতুন মোতায়েনকে দেখছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন