‘তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই দমকল দফতরের অফিসারের গাফিলতি খুঁজে পেয়েছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।’ গত সোমবার বীরভূমের তারাপীঠের হোটেলে আগুন লেগে নয় জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরে এমনটাই জানালেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল।
মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তারাপীঠ এবং কলকাতার হোটেলে আগুন লেগে আঠারো জনের মৃত্যুর ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যাবতীয় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করে নবান্ন। তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পরে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। যে রিপোর্টের ভিত্তিতে ওই হোটেলকে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল, সেই রিপোর্ট দেওয়া স্টেশন অফিসার অভয় চৌধুরীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অভয় চৌধুরীর দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই তারাপীঠের ওই হোটেলের ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল।
বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, ‘ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ফায়ার অডিট করা হবে। কিন্তু তার আগে এই বিল্ডিং-গুলির এনওসি কারা দিচ্ছেন? কাদের তরফে ইনস্পেকশন করা হয়েছে সেই সম্পর্কে বিশদে জানতে চায় রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তর।’ নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোরে তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ন’জন আবাসিকের মৃত্যু হয়। ওই দিনই হোটেলের মালিক প্রবীর পাল ও তাঁর ছেলে কল্যাণআশিস পালকে গ্রেফতার করে তারাপীঠ থানার পুলিশ। তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ডের জেরে নিরাপত্তায় খামতির অভিযোগে মঙ্গলবারই বীরভূম জেলা প্রশাসন তারাপীঠের ১৫টি হোটেল এবং লজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
আজ, বুধবার ১৫টি হোটেলে প্রশাসনের তরফ থেকে নোটিস হাতে ধরিয়ে হোটেল বন্ধ করা হল। হোটেলে লোক থাকলেও তাদের বিকল্প জায়গায় রেখে হোটেল বিকেলের মধ্যে বন্ধ করতে হবে বলে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাসপেন্ডেড দমকল আধিকারিকের নাম অভয় চৌধুরী। ফায়ার স্টেশন অফিসার হিসেবে ‘বিদেশিনী’ হোটেলটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দেখে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন তিনি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, বুধবার সে নিয়ে হোটেলমালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল বীরভূম জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর, অভয় চৌধুরী যে সময় তারাপীঠের ফায়ার স্টেশন অফিসার ছিলেন, সেই সময় থানার অনতিদূরের হোটেলটির ‘ফায়ার অডিট’ হয়। রবিবার রাতের অগ্নিকাণ্ডের পর ওই হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষিতে বর্তমান সাঁইথিয়া ফায়ার স্টেশনে কর্মরত অভয়কে সাসপেন্ড করা হল।


