চিনির দাম ছুঁল কেজি প্রতি ৭০ টাকা, মহার্ঘ গুড় ও বাতাসা

দুর্গাপূজা ও আসন্ন উৎসবের মরশুমের মুখে কলকাতায় খুচরো বাজারে চিনির দাম হু-হু করে বেড়ে কেজি প্রতি ৭০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের.....

দুর্গাপূজা ও আসন্ন উৎসবের মরশুমের মুখে কলকাতায় খুচরো বাজারে চিনির দাম হু-হু করে বেড়ে কেজি প্রতি ৭০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, গত এক মাসেই চিনির দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে এবং শেষ চার-পাঁচ দিনে হঠাৎ করেই দামের ওপর ১০ শতাংশ উল্লম্ফন ঘটেছে। চিনির পাশাপাশি মিষ্টি তৈরির অন্যান্য উপাদান যেমন গুড়, বাতাসা ও নকুলদানার দামও এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।

 

 

এই পরিস্থিতিতে উৎসবের মুখে মিষ্টির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কায় মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ ক্রেতা ও মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের। বাজারের এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় এক দশক পর চিনি কলগুলিকে এক মিলিয়ন (১০ লক্ষ) টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। এর পাশাপাশি যে সমস্ত বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মাসে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহার করে, তাদের জন্য মজুতের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিয়ে সর্বাধিক ১৫ দিনের ব্যবহারের সমপরিমাণ চিনি রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারের এই পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব এখনও খুচরো বাজারে এসে পৌঁছায়নি।

 

 

কনফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (সিডব্লুটিএ) সভাপতি সুশীল পোদ্দার জানান, পাইকারি বাজারে চিনির দাম ইতিমধ্যেই কেজি প্রতি ৬৫ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। চিনি কলগুলির ওপর যথাযথ সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকা এবং ইথানল তৈরিতে বিপুল পরিমাণ চিনি ব্যবহার করাকেই এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রের অনুমোদিত ১০ লক্ষ টন চিনি দিয়ে দেশের মাত্র পক্ষকালের (১৫ দিনের) চাহিদা মিটবে, ফলে উৎসবের মরশুমে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও কড়া সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন কম হওয়াও দাম বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ইথানল তৈরির যুক্তি নাকচ করে দিয়ে কালোবাজারি ও অসাধু মজুতদারিকেই চিনির মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন।

 

তবে চিনিকল মালিকদের দাবি, গত এপ্রিলেই আখ মাড়াইয়ের মরশুম শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে অবশিষ্ট মজুত থেকেই চিনি সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে এই মুহূর্তে মিলগুলির আর বেশি কিছু করার নেই। রেটিং সংস্থা ইকরার(আইসিআরএ) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে মোট চিনি উৎপাদন ৫.০৩ শতাংশ বেড়ে ৩১.১০ মিলিয়ন টন হওয়ার পূর্বাভাস থাকলেও, ইথানল প্রকল্পে ৩.১ মিলিয়ন টন চলে যাওয়ায় নিট উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২৮ মিলিয়ন টনে। ফলে সেপ্টেম্বর নাগাদ দেশের মোট মজুত তলানিতে নেমে প্রায় ৪.৩ মিলিয়ন টনে ঠেকতে পারে, যা বিগত বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই কম।

আরও পড়ুন