অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ড দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার মাইক হাসি। চেন্নাই সুপার কিংসের দীর্ঘদিনের সতীর্থ স্টিফেন ফ্লেমিং ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট প্রধান কোচ হওয়ার পর তিনি এই প্রস্তাব পান। ফ্লেমিংয়ের তরফ থেকে যোগাযোগ করার পর এই সুযোগটি সরাসরি নাকচ করেননি হাসি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম বড় লড়াইয়ে নিজের জন্মভূমির বিরুদ্ধে রণকৌশল সাজানোর এই সম্ভাবনা ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল-এর সবশেষ মরশুমেও চেন্নাই সুপার কিংসের কোচিং প্যানেলে একসঙ্গে কাজ করেছেন এই দুজন। প্রায় দেড় দশকের পুরনো সেই সম্পর্কই এবার হাসিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন ভূমিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করছে। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পর্ব শেষ হওয়ার পর ফ্লেমিং ইংল্যান্ড টেস্ট দলের দায়িত্বে এসেই মাইক হাসিকে পাশে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ফক্স স্পোর্টস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসি স্পষ্ট জানান যে, পরিস্থিতি নিয়ে ভাবনার অনেক জায়গা রয়েছে এবং ছোট করে বলতে গেলে তিনি কোনো সুযোগকেই সরাসরি না বলছেন না। কোচিংয়ের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন যে খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্য সাহায্য করাই তাঁর মূল লক্ষ্য, তারা অস্ট্রেলিয়ান, ইংলিশ, দক্ষিণ আফ্রিকান, পাকিস্তানি বা ভারতীয় যেকোনো দেশেরই হোক না কেন তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭৯টি টেস্টে ৬ হাজার ২৩৫ রান করা ৫০ বছর বয়সী এই তারকা এর আগে ২০২২ সালের ২০ ওভারের বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
তবে অ্যাশেজের মতো মেগা লড়াইয়ে নিজের দেশের বিপক্ষে কাজ করা কিছুটা অদ্ভুত অনুভূতির হলেও একজন পেশাদার হিসেবে তিনি এই বিষয়টিকে পেশাগত জায়গা থেকেই দেখছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান যে অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কোচিং করানো নিশ্চয়ই কিছুটা অদ্ভুত মনে হবে, কিন্তু কাজটা যখন করতে হচ্ছে তখন নিজের সেরাটা দেওয়াই নিয়ম। তিনি কোনো দলের বিপক্ষে কোচিং করাচ্ছেন বলে মনে করেন না, বরং যে দলের সাথে আছেন তাদের জয়ের জন্য কাজ করেন। পরিবারকে সময় দেওয়ার বিষয়টি এবং কোনো সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়ো না করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন যে ফ্লেমিংয়ের সাথে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে।
একই সাথে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ফ্লেমিংয়ের গেম প্ল্যান ও পরিচালনা ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন হাসি। তিনি জানান যে ফ্লেমিং খেলার সমস্ত দিক খুব ভালো বোঝেন এবং আনন্দ ও সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রেখে কাজ করতে পারেন। ইংল্যান্ডের বর্তমান আগ্রাসী ক্রিকেটকে বজায় রেখেও কিছুটা বুদ্ধিদীপ্ত ও সতর্ক ব্যাটিংয়ের ওপর ফ্লেমিং জোর দেবেন বলে হাসি আশা প্রকাশ করেন। আগামী বছর জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অ্যাশেজে ২০১৫ সালের পর প্রথমবার ট্রফি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নামবে ইংলিশ বাহিনী, আর এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে চেন্নাই দলের কোচিং কাঠামোতেও এক বড় শূন্যতা তৈরি হবে।


