‘যে ভাবে মুড়ি-মুড়কির মতো মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার দেওয়া হয়েছে, তাতে অভ্যাস খারাপ হয়ে গিয়েছে।’ রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে এভাবেই বিক্ষোভকারীদের তীব্র সমালোচনা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা না-পাওয়া নিয়ে রাজ্য জুড়ে মহিলাদের ক্ষোভ বাড়ছে। জেলায় জেলায় অবরোধ-বিক্ষোভের ছবি। কোথাও ডবল ইঞ্জিন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন বঞ্চিতরা। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানালেন, সকলের অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে তৃণমূল। বুঝতে হবে, সব প্রকল্প সকলের জন্য নয়। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যে ভাবে মুড়ি-মুড়কির মতো মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার দেওয়া হয়েছে, তাতে অভ্যাস খারাপ হয়ে গিয়েছে (উপভোক্তাদের)। তবে এটা সকলের জানা উচিত, সব সুবিধা সবার জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক প্রকল্প আছে, রাজ্য সরকারেরও নানা প্রকল্প করেছে। একটা সীমা আছে।
তার জন্য ক্রাইটেরিয়া (মানদণ্ড) ঠিক করা আছে। এর মধ্যে যাঁরা পড়বেন, তাঁরা পাবেন।’ তবে এর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘দান মনে করে সবাই পাবেন, এটা হবে না। তৃণমূলই এই অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে।’ শুধু তাই নয় অনেকে শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেমাস হওয়ার জন্য অথবা বন্ধু মহলের নাম কেনার জন্য বিজেপি সরকারের অসম্মান করতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে কুৎসা রটনা করছে বলে ও অভিযোগ করে বিকেলে খড়্গপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত বিক্ষোভ প্রসঙ্গে দিলীপ বললেন, ‘বিক্ষোভ দেখানো ফ্যাশন আমাদের এখানে।’ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা যাঁরা পাননি, সেই সব মহিলাদের অনেকেরই অভিযোগ, তাঁরা অফলাইনে এবং অনলাইনে দু’বার ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছেন। কিন্তু এখনও টাকা পাননি।
এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আবেদন জানালেই পাওয়া যাবে এমনটা নয়। যে শর্ত দেওয়া আছে, তার মধ্যে আসতে হবে। স্ক্রুটিনি চলছে। যাঁদের ভোটার লিস্টে নাম কেটে গিয়েছে, ৯০ লক্ষের মতো, ভোটার নয়, দেশের নাগরিক নয়, তাঁরা পাবেন না।’ দিলীপের সংযোজন, কোটি কোটি আবেদন জমা পড়েছে। ম্যাচিং হওয়ার পরে সরকার ঠিক করবে। যাঁদের যোগ্য মনে হবে, তাঁদেরই দেওয়া হবে। পাশাপাশি গত সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়েও সরব হন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘প্রায় আড়াই কোটি লোককে লক্ষীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা দিত। তার মধ্যে তিন লক্ষ পুরুষ ছিলেন। তাঁদের জেলে ঢোকানো হবে। এই রকম এক কোটি লোক বের হবে, যাঁরা যোগ্য নন।’


