রাসুয়ায় হড়পা বানে নিশ্চিহ্ন একাধিক গ্রাম নিখোঁজ হাজার!

তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে একাধিক গ্রাম। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ আচমকা ফুলে-ফেঁপে.....

তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে একাধিক গ্রাম। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ আচমকা ফুলে-ফেঁপে ওঠে ভোতে কোশি নদী। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় কয়েকটি গ্রাম এবং বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের এলাকা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০০ জন হড়পা বানে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন, যদিও এই সংখ্যা সরকারি ভাবে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। এখনও পর্যন্ত সরকারি সূত্রে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং সাড়ে তিনশোরও বেশি মানুষ নিখোঁজ, যাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটকও রয়েছেন।

 

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাসুয়ার স্যাপ্রুবেশি ও তিমুরে এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তিব্বতের দিক থেকে আসা ভোতে কোশি নদীতে আচমকা জলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে জানিয়েছে নেপাল প্রশাসন। এই জলস্রোত ত্রিশূলী নদীর অববাহিকাতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কায় নুওয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান ও গোরখা জেলার বাসিন্দাদের সতর্ক করে নিরাপদ উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু হলেও দুর্গম পাহাড়ি পথ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামোর জেরে সমস্যায় পড়ছে উদ্ধারকারী দল।পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তাঁর উপদেষ্টা অসীম শাহ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জেলাশাসকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন তিনি।বিপর্যয়ের খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন ভারতও। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং মৃতদের প্রতি শোকপ্রকাশ করে উদ্ধার ও ত্রাণে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টেও তিনি নেপালকে পাশে থাকার বার্তা দেন।

 

ভারতীয় বায়ুসেনাও উদ্ধারকাজে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সবুজ সঙ্কেত পেলেই সি-১৭ ও সি-১৩০ বিমানে ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ ও আর্থ মুভিং ইক্যুইপমেন্ট নিয়ে নেপাল রওনা দেবে ভারত। সি-১৩০ বিমান আজই এবং সি-১৭ আগামিকাল দুপুরে রওনা দেবে বলে সূত্রের খবর। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও।নেপালের এই জলোচ্ছ্বাস গণ্ডক ও কোশী নদী হয়ে বিহারে পৌঁছনোর আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় পাটনা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কেন্দ্র থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যসচিব প্রত্যয় অমৃত ও ডিজিপির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং কমিটি তৈরি হয়েছে। সীমান্তসংলগ্ন ৬টি জেলায় এনডিআরএফ টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন