দেশকে মাদকাসক্তি মুক্ত করতে এবং যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর মাসিক বেতার অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মাদকবিরোধী প্রচারকে একটি ‘পবিত্র মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মাদকাসক্তি কেবল একজন ব্যক্তিকে শেষ করে না, তার সমগ্র পরিবার ও সমাজকেও গভীর বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজ ও শিল্পীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কি মাদকমুক্ত ভারতের জন্য কোনো জোরালো স্লোগান তৈরি করতে পারেন? আমাদের তরুণ সঙ্গীতশিল্পীরা কি এমন গান বানাতে পারেন যা মাদকমুক্ত জীবনের বার্তা দেবে? পড়ুয়ারা বা নাট্যদলগুলি কি এমন পথনাটক তৈরি করতে পারে যা মাদকের ভয়াবহতার পাশাপাশি আসক্তি থেকে মুক্তির পথ দেখাবে?” তিনি বিভিন্ন ভাষায় সৃজনশীল ভিডিও ও কন্টেন্ট তৈরি করে তা সামাজিক মাধ্যমে ‘#NashaMuktYuva’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রচারের তুলনায় সৃজনশীল উদ্যোগ জনমানসে অনেক বেশি গভীর প্রভাব ফেলে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মুম্বইয়ের বাসিন্দা কৃষ্ণ শেষাদ্রির তৈরি ওয়েবসাইট ‘ভারতরাজ্য ডট কম’-এর প্রশংসা করেন, যা প্রযুক্তির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ভারতের গৌরবময় প্রাচীন সাম্রাজ্যগুলির ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করাচ্ছে। এছাড়া ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে দেশজুড়ে ৮ কোটিরও বেশি সেলফি আপলোড এবং বিশ্বজুড়ে ফিজি থেকে সান ফ্রান্সিসকো পর্যন্ত ‘সূর্যপথ তিরঙ্গা’ যাত্রার সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, এ বছর ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি জাতীয় উদযাপনে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। উৎসবের মরশুমের প্রাক্কালে দেশীয় শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে ফের ‘ভোকাল ফর লোকাল’ হওয়ার ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি মনে করিয়ে দেন, এই আহ্বানের অর্থ শুধু মাটির প্রদীপ কেনা নয়, বরং ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিস যেন ভারতে তৈরি হয় তা নিশ্চিত করা। তিনি জানান, পিএম স্বনিধি প্রকল্পের ৪৬ শতাংশ সুবিধাভোগীই হলেন মহিলা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার সংখ্যা প্রায় ৩৫ লক্ষ। সম্প্রতি শেষ হওয়া অমরনাথ যাত্রায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তীর্থযাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ৪০০ মেট্রিক টনেরও বেশি বর্জ্য সাফাইয়ের নজিরের প্রশংসাও করেন তিনি। বক্তব্যের শেষে ৩ সেপ্টেম্বর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।


