ফলতার রায় কি বামেদের বাস্তববোধকেই প্রশ্নে ফেলল ?

ফলতার গণনা শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলের চোখ আটকে ছিল শুধু ফলাফলে নয়, ফলাফলের পরের ভাষাতেও। কারণ, এক লক্ষের বেশি.....

ফলতার গণনা শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলের চোখ আটকে ছিল শুধু ফলাফলে নয়, ফলাফলের পরের ভাষাতেও। কারণ, এক লক্ষের বেশি ভোটে পিছিয়ে থেকেও সিপিএম নেতৃত্বের মুখে শোনা গেল আত্মবিশ্বাসী প্রত্যাবর্তনের সুর। আর সেখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— বাংলার বদলে যাওয়া রাজনৈতিক জমি কি এখনও ঠিকমতো পড়তে পারছে না বামেরা? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা কার্যত ঝড় তুলে দিয়েছেন। প্রায় দেড় লক্ষ ভোট পেয়ে তিনি শুধু জেতেননি, বিরোধী শিবিরের শক্তির ভারসাম্যও নতুন করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

 

সিপিএমের প্রার্থী দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ব্যবধান এতটাই বিশাল যে রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রচলিত সংজ্ঞাতেই তা একতরফা ফল। তৃণমূল আরও পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ স্পষ্ট হয়েছে— শাসকবিরোধী প্রধান শক্তি এখন নিঃসন্দেহে বিজেপি। তবু এই বাস্তবতার মাঝেই সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য ছিল অন্য সুরে বাঁধা। তিনি কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে দাবি করেছেন, মানুষের সমর্থন বাড়ছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথও খুলছে। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একাংশকেও উল্লেখ করে তাঁর মন্তব্য আরও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, পরাজয়ের অভিঘাত সামলাতে গিয়ে বামেরা যেন ফলাফল নয়, নিজেদের মানসিক সান্ত্বনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

আসলে ফলতা শুধু একটি উপনির্বাচনের ফল নয়, এটি বিরোধী রাজনীতির ভিত মাপারও পরীক্ষা ছিল। সেখানে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা যেমন প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই বামেদের সীমাবদ্ধতাও নগ্ন হয়েছে সংখ্যার নিরিখে। দ্বিতীয় হওয়া আর জনসমর্থনের কেন্দ্র হয়ে ওঠা— এই দুইয়ের ফারাক যে বিপুল, ফলতা তা স্পষ্ট করে দিল। এক সময় বাংলার রাজনীতিতে বামেরা ছিল প্রধান মেরু। কিন্তু এখন তাদের রাজনৈতিক ভাষা ও মাটির বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ ভোটার যখন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন, তখন পরাজয়কে প্রায় বিজয়ের ভাষায় ব্যাখ্যা করা অনেকের কাছেই আত্মপ্রবঞ্চনার মতো শোনাচ্ছে। ফলতার রায় তাই শুধু ক্ষমতার পালাবদলের গল্প নয়। এটি বিরোধী রাজনীতির আত্মসমীক্ষারও আয়না।

আরও পড়ুন