দ্বিতীয় দফাতেও ভোট দানে ‘সুনামি’

২৩ এপ্রিল বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোটের হার দেখে চমকে উঠেছিল গোটা দেশ। তবে.....

২৩ এপ্রিল বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোটের হার দেখে চমকে উঠেছিল গোটা দেশ। তবে প্রথম দফার ভোটগ্রহণে এই বিপুল সংখ্যক ভোটদান যে শুধুমাত্র হঠাৎ হয়ে যাওয়া নয় তার প্রমাণ মিলল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিনেও। বুধবার বাংলার ১৪২ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের দিনে বিকেল পাঁচটার মধ্যেই ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে গেল। ৩ কোটি ২১ লক্ষেরও বেশি ভোটারের রায়ে ১,৪৪৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য এখন বন্দি ইভিএম-এ।

 

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৯০ শতাংশ, যা শেষবেলায় আরও কয়েক ধাপ বাড়বে বলে নিশ্চিত আধিকারিকরা। আজ ভোট হয়েছে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়া জেলায়। সকাল থেকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইভিএম খারাপ হওয়ার অভিযোগ আসতে থাকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বারাসত মহকুমায় অন্তত আটটি বুথে ইভিএম খারাপ হয়ে যায়। যার ফলে দেরিতে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এছাড়া দক্ষিণ হাওড়ার একটি, সাঁকরাইলের ১৩টি, ডোমজুড়ের ১৭টি এবং জগৎবল্লভপুরের ছ’টি বুথে ইভিএম বিগড়ে যায়।

 

নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ চলছে ভাঙড়ে। সেখানকার তিন বুথে ইভিএম খারাপের অভিযোগ। এদিকে, ডোমজুড় বিধানসভার বাঁকড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের দু’টি বুথে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। এনিয়ে কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। সকাল ৭টা থেকেই ভোটারদের ভিড় দেখা যায় বিভিন্ন বুথে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দু’ঘণ্টায় সকাল ৯টা পর্যন্ত গড়ে ভোট পড়েছে ১৮.৩৯ শতাংশ। দুপুর ১টায় পর্যন্ত ভোটদানের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬১.১১ শতাংশ। আর পাঁচটা পর্যন্ত ভোটের হার গিয়ে দাড়াল ৮৯.৯৯ শতাংশে। পশ্চিমবঙ্গে মানুষ ভয়হীন পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। এমন ঘটনা আগে কখনো হয়নি।

 

উত্তরপ্রদেশের হরদোইয়ে একটি জনসভায় এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবারের অন্তিম দফায় ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটারের মধ্যে যেমন লক্ষ লক্ষ তরুণ তুর্কি ছিলেন, তেমনই গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হয়েছিলেন ৩,২৪৩ জন শতায়ু বৃদ্ধ এবং ১,৯৬,৮০১ জন প্রবীণ নাগরিক। এই দফার ১৪২টি আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই এলাকাগুলিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। সেবার এই আসনগুলির মধ্যে ১২৩টিতে জিতেছিল ঘাসফুল শিবির, বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ১৮টি এবং আইএসএফ একটি। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পাখির চোখ’।

 

অন্যদিকে, ভাঙড় আসনে এবার সর্বাধিক ১৫ জন প্রার্থী লড়াই করায় সেখানে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। ভোটের হার চমক দিলেও দিনভর দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। দফায় দফায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বচসা, ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং পুলিশের লাঠিচার্জের মতো ঘটনায় সরগরম ছিল নির্বাচনী ময়দান। তবে এই সমস্ত চাপানউতোর ছাপিয়ে দিনশেষে ভোটারদের বিপুল উপস্থিতিই প্রধান খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ৪ মে গণনার দিন পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ২৯৪, ম্যাজিক ফিগার ১৪৮।

 

পশ্চিমবঙ্গের মতোই কেরলেও কঠিন পরীক্ষার মুখে ক্ষমতাসীন বাম গণতান্ত্রিক জোট। অসমে আবার বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চ্যালেঞ্জ কংগ্রেসের সামনে। তামিলনাড়ুতেও ডিএমকে-কংগ্রেস জোট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই এআইডিএমকে-বিজেপি জোটের। পুদুচেরিতে পরীক্ষায় এন আর কংগ্রেস এবং বিজেপি জোট সরকারের সামনেও ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, বুধবার উত্তরপ্রদেশের হরদইতে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, ‘নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। আজকের দিনটি গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক জয় পেতে চলেছে বিজেপি’।

আরও পড়ুন