পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সংকল্প পত্রে ঘোষণা করা হয়েছিল বিজেপি সরকার গঠন করলে বাংলায় লক্ষীর ভান্ডারের পরিবর্তে চালু হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। তারপরে বাংলার মহিলারা প্রতিমাসে পাবেন তিন হাজার টাকা করে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ছিল কারা কিভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন এবং কেউ বাদ যাবেন কিনা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম দিন ক্যাবিনেট বৈঠক করেই নবান্ন থেকে জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যে যে সমস্ত সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষ পেয়ে আছেন তা থেকে এখনই বঞ্চিত হবেন না।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুরু করা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধে এখন যাঁরা পাচ্ছেন তারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধে পাবেন কিনা তা নিয়ে রাজ্যের সমস্ত মহিলাদের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল প্রশ্ন চিহ্ন। তবে প্রথম ক্যাবিনেট করার পরে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছিলেন লক্ষ্মীর ভান্ডার অথবা অন্য কোন সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না। তবে আগামী ১ জুন থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে রাজ্যে চালু হতে চলেছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। রাজ্যের মহিলারা মাসিক ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
এই নিয়ে নানা সংশয় তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বুধবার বিস্তারিত জানালেন নারী-শিশু, সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বুধবার রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক পদে শপথ নেওয়ার পরেই রাজ্যের এই প্রকল্পের ব্যাপারে বিস্তারিত জানান অগ্নিমিত্রা পাল। মন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন, তাঁরা সবাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন। ৯১ লক্ষ নাম পর্যালোচনা করা হবে। তাঁদের নাম আপাতত বাদ যাচ্ছে না। তবে কেউ মারা গিয়েছেন, কেউ যদি বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাঁরা কোনও ভাবেই এই সুবিধা পাবেন না। যাঁদের নাম এসআইআর থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা নাগরিক কি না সেটা যাচাই করে দেখা হবে’।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পেতে নতুন আবেদন কী ভাবে রাজ্যের মহিলারা করবেন সেই বিষয়ে মন্ত্রী জানিয়ে দেন, যে সমস্ত মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁদের কোনও চিন্তা নেই। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগে এই প্রকল্পের আবেদন ‘দুয়ারে সরকার’-এর মাধ্যমে নেওয়া হতো। এখন অনলাইনে এই প্রকল্পের আবেদন পত্র পাওয়া যাবে। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা খুব দ্রুত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা করছি। যে মহিলা শিক্ষিত নন, তাঁদের সুবিধার জন্যেও এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া খুবই সহজ করা হবে। মা-বোনেরা যাতে অনলাইনে আবেদন করতে পারে, তার ব্যবস্থা করছি’।


