এবার আতসকাচে বড়বাজারের বেআইনি ভবন

তিলজলার বেআইনি চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনার পর কলকাতার বেআইনি নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু.....

তিলজলার বেআইনি চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনার পর কলকাতার বেআইনি নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবার স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের আতসকাচের নীচে এসে পড়েছে শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র বড়বাজার। বাগড়ি মার্কেট ও ক্যানিং স্ট্রিট সংলগ্ন এই বিস্তীর্ণ এলাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ড এবং নিয়মের তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দুই-ই চরম রূপ নিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বড়বাজারের একটি বড় অংশে কোনো রকম নিয়ম না মেনেই বছরের পর বছর ধরে রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা। ফুটপাত দখল করে গজিয়ে ওঠা দোকান থেকে শুরু করে যত্রতত্র প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে ঘেরা অস্থায়ী বিপণি— সব মিলিয়ে পুরো এলাকাটি কার্যত একটি টাইম বোমার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঘিঞ্জি ও সরু গলি, মাথার ওপর বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের জট এবং তার সঙ্গে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব যেকোনো সময় বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতীতের একাধিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতা থেকেও যে কেউ শিক্ষা নেয়নি, স্থানীয়দের একাংশের ক্ষোভেই তা স্পষ্ট।

তবে তিলজলার ঘটনার পর এবার কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড়বাজার এলাকার বেআইনি বাণিজ্যিক ভবনগুলো চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসনের এই তৎপরতা শুধু খাতায়-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বড়বাজারকে নিরাপদ করতে সত্যিই কোনো স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন