প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতায় কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা শহরবাসীর। সকাল থেকেই রোদের তীব্রতা আর বাতাসে আর্দ্রতার কারণে ঘেমে-নেয়ে নাজেহাল মানুষজন। এই পরিস্থিতিতে স্বস্তি পেতে শহরের বিভিন্ন সরবত ও জুসের দোকানে এখন উপচে পড়ছে ভিড়।
গরম থেকে কিছুটা আরাম পেতে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টক দইয়ের ঠান্ডা লস্যি। বরফকুচি দেওয়া এই লস্যিই এখন শহরের মানুষের প্রথম পছন্দ। বিক্রেতাদের মতে, লস্যির পাশাপাশি দ্বিতীয় জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে উঠে এসেছে কালো আঙুরের জুস। এছাড়া তৃতীয় স্থানে রয়েছে আম লস্যি, যার চাহিদাও কম নয়।
কলকাতার বাজারে এক গ্লাস লস্যির দাম সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে থাকছে। কিছু কিছু জায়গায় তা ৬০ টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকানদাররা। তবে দাম সামান্য বেশি হলেও গরমের হাত থেকে রেহাই পেতে ক্রেতারা লস্যির দিকেই ঝুঁকছেন বেশি।
শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সোমবার দেখা যায়, লস্যি ও কালো আঙুরের জুসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দোকানদারদের দাবি, কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে টক দইয়ের লস্যি তৈরি করতে বেশি পরিমাণ দই পাততে হচ্ছে। লস্যি তৈরিতে টক দই, জল, চিনি, কুচানো বরফ, সুগন্ধি এবং কাজু বাদামের গুঁড়ো ব্যবহার করা হচ্ছে।হাতিবাগানের এক লস্যি বিক্রেতা স্বপন সাহা জানান, “গত বছর চকলেট, রোজ, কেশর ও ম্যাঙ্গো লস্যির চাহিদা ভালো ছিল। তবে এবার টক দইয়ের লস্যিই বেশি জনপ্রিয়।”
অন্যদিকে বড়বাজারের এম.জি. রোড এলাকার জুস বিক্রেতা সঞ্জয় সাউ বলেন, “টক দইয়ের লস্যির পাশাপাশি আপেল, মিক্স ফ্রুট, অরেঞ্জ ও মৌসম্বি জুসের চাহিদাও রয়েছে।
অনেকে বাস বা অফিস থেকে নেমেই সরাসরি জুসের দোকানে ভিড় করছেন। আগে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় খেয়ে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন, তারপর আবার গন্তব্যের পথে রওনা দিচ্ছেন। কেউ কেউ বাড়ির জন্যও লস্যি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বাগবাজার স্ট্রিটের বাসিন্দা সমরেশ পাল জানান, গরমে টক দই শরীরের জন্য খুবই উপকারী, তাই লস্যি খাচ্ছি।
শ্যামবাজার এলাকার এক দোকানে লস্যি খেতে দেখা যায় দমদমের দুই গৃহবধূকে। তাঁরা বলেন, বাড়ির কাজে বেরিয়ে প্রচণ্ড গরমে খুব কষ্ট হচ্ছিল, তাই তৃষ্ণা মেটাতে লস্যি খেলাম। সত্যিই ভালো লেগেছে।
তীব্র গরমে আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিংকসকে অনেকটাই পিছনে ফেলে এবার শহরের বাজারে দাপট দেখাচ্ছে টক দইয়ের লস্যি ও কালো আঙুরের জুস।


