লাল-হলুদের আবেগের বিস্ফোরণ: ট্রফি জয়ের পর ইস্টবেঙ্গলে কি থাকবেন অস্কার ব্রুজো?

দীর্ঘ ২২ বছরের অবসান ঘটিয়ে ট্রফি জয়ের আনন্দে ভাসছে ইস্টবেঙ্গল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন রূপ নিয়েছে এক লাল-হলুদ সমুদ্রে। বহু ব্যর্থতা, হতাশা.....

দীর্ঘ ২২ বছরের অবসান ঘটিয়ে ট্রফি জয়ের আনন্দে ভাসছে ইস্টবেঙ্গল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন রূপ নিয়েছে এক লাল-হলুদ সমুদ্রে। বহু ব্যর্থতা, হতাশা আর অপমানের পর এই জয় যেন সমর্থকদের কাছে এক পরম প্রাপ্তি। আর এই ঐতিহাসিক পুনরুত্থানের নেপথ্য কারিগর যিনি, সেই হেড কোচ অস্কার ব্রুজো-কে ঘিরেই এখন আবর্তিত হচ্ছে সব আবেগ। তবে উদযাপনের মাঝেই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে একটি প্রশ্ন— আগামী মরশুমেও কি লাল-হলুদ ডাগআউটে দেখা যাবে এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ডকে?

 

ইউসেফ, মিগুয়েল, আনোয়ার ও প্রভসুখনদের নিয়ে কোচ ব্রুজো যখন ট্রফি হাতে সমর্থকদের সামনে আসেন, তখন গ্যালারিতে বাঁধ ভাঙা উল্লাস তৈরি হয়। বহু বছর পর সাফল্যের মুখ দেখা সমর্থকেরা চোখের জলে ভাসতে ভাসতে কোচকে অনুরোধ করেন ‘স্যার, আমাদের ছেড়ে যাবেন না। ‘

ব্যালকনি থেকে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আবেগঘন কণ্ঠে অস্কার ব্রুজো বলেন ‘ আজ আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ। এই দলটা শুধু একটা ম্যাচ জেতেনি, ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জিতেছে। ইস্টবেঙ্গল একটা ইতিহাস। এই ক্লাব হার মানতে জানে না। কঠিন সময়েও লড়াই করে ফিরে আসাই এদের ঐতিহ্য। ‘
অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি এতটা মসৃণ ছিল না। আইএসএলে মুম্বই সিটি ম্যাচের আগে ব্রুজো নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, পরের মরশুমে হয়তো তিনি আর থাকছেন না । ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা না থাকায় তিনি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন।

 

ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন ছিল যে, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড কিংবা আইএসএলের অন্যতম ক্লাব এফসি গোয়া থেকে তাঁর কাছে লোভনীয় প্রস্তাব রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কি আটকে রাখা যাবে ‘হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা’কে?
ট্রফি জয়ের পর দৃশ্যপট এখন অনেকটাই বদলে গেছে। ক্লাব কর্তারা ইতিমধ্যেই ব্রুজোকে থেকে যাওয়ার জন্য আন্তরিক আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সমর্থকেরা তাঁদের সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, অস্কার ব্রুজো এখন আর শুধুই একজন বিদেশি কোচ নন, তিনি লাল-হলুদ পরিবারের একজন অবিচ্ছেদ্য অংশ । এখন দেখার, কলকাতার এই অভূতপূর্ব ফুটবল আবেগ শেষ পর্যন্ত অস্কার ব্রুজোকে ইস্টবেঙ্গলেই আটকে রাখতে পারে কি না। সমর্থকেরা অবশ্য বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, তাঁদের ‘হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা’ এখনই কোথাও যাচ্ছেন না।

আরও পড়ুন