পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেও ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিল — দেশে কোনও জ্বালানি সংকট নেই। একইসঙ্গে কেন্দ্র আশ্বাস দিয়েছে, যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সোমবার পরিবহন, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই তথ্য জানান। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সরকারি প্রতিনিধিরা কমিটিকে জানান, বর্তমানে ভারতের হাতে ৭৮ দিনেরও বেশি জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী সংকটেও দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। এছাড়াও জানানো হয়, সংঘাত থেমে গেলে মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
বৈঠকে সার আমদানির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। ভারত তার মোট সার আমদানির ৩০ শতাংশেরও বেশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে করে থাকে। এই পথ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিক্ষেত্রে গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ইতিমধ্যেই বিকল্প পথ ও ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রের কৌশল মূলত তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে — কৌশলগত মজুদ বজায় রাখা, আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং নৌপরিবহন, জ্বালানি, বাণিজ্য ও কূটনীতি মন্ত্রণকগুলির মধ্যে নিবিড় সমন্বয় নিশ্চিত করা।
তবে এই আশ্বাসের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সুযোগে দেশেও দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খরচে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।


