ছেলের মুখের একটি কথাই যেন চোখ খুলে দিয়েছিল ববি দেওলের। ‘অ্যানিম্যাল’ এবং ‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’ দিয়ে কেরিয়ারে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করলেও, এক সময় মদের নেশায় ডুবে থাকতেন অভিনেতা। কাজ হারিয়ে চূড়ান্ত হতাশায় দিন কাটত তাঁর। তবে এই কঠিন সময়েও হাত ছাড়েননি স্ত্রী তান্যা দেওল। শেষমেশ বড় ছেলে আর্যমানের কথাতেই মদের মারাত্মক আসক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করেন ধর্মেন্দ্র-পুত্র। বলিউডের সফল অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর ছেলে হওয়ায় কেরিয়ারের শুরুতে সহজেই সাফল্য পেয়েছিলেন ববি। তবে এক সময় দীর্ঘ দিন হাতে কোনও কাজ ছিল না তাঁর। সেই হতাশা থেকেই ডুবে যান মদের ঘোরে। ববি জানান, ‘মদের নেশা ভয়ঙ্কর। এটা মস্তিষ্কের সঙ্গে খেলা করে। আমি রোজ মদ খাচ্ছি, এমন নয়।
কিন্তু খাওয়ার পর যেন মানুষটা অন্য হয়ে যেতাম। সে কারণে আমার বাড়ির লোকেরা আতঙ্কে থাকত। সারা দিন বাড়িতে বসে মদ্যপান করতাম।’ অভিনেতা মনে করেন, বাবা ধর্মেন্দ্র মদ্যপান করতে ভালবাসতেন বলেই তাঁর মধ্যেও এই আসক্তি তৈরি হয়। উপার্জন বন্ধ হওয়ায় এক সময় ববির সংসার চালানোর টাকাও ছিল না। তখন স্ত্রী তান্যা একাই সমস্ত খরচ সামলান। ববির কথায়, ‘তান্যা চাইলেই আমাকে ছেড়ে যেতে পারত। কিংবা মদ ছাড়ার জন্য জোরাজুরি করতে পারত। ও কখনও তেমন কিছু করেনি।’ ববির এই অবস্থা দেখে প্রথম আপত্তি জানিয়েছিল তাঁর বড় ছেলে আর্যমান। ববি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘একদিন ছেলে আমার স্ত্রীকে বলছে, ‘মা তুমি রোজ কাজে যাও, বাবা তো বাড়ি বসে থাকে!’ এই কথাটা শুনে অনেক কিছু বদলে গেল।’ ছেলের মুখের এই বাস্তব কথাটি শোনার পরেই মদ্যপান ত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন অভিনেতা। ফিরে পান নতুন জীবন।


