মালদা, বিশ্বজিৎ মন্ডলঃ নাবালিকাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার পর তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক নাবালিকা বধূ নিজের মা ও স্বামীর বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্ত যুবক ও নাবালিকার মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের একটি এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আট মাস আগে এলাকার এক বিবাহিত যুবকের সঙ্গে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর জোরপূর্বক বিয়ে দেন তার মা। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ওই নাবালিকার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন তার স্বামী।
নির্যাতনের জেরে একাধিকবার সে বাবার বাড়িতে ফিরে আসে। অভিযোগ,স্বামীর বাড়ি যেতে অস্বীকার করলে নাবালিকার মা তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়ে সোমবার রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই নাবালিকা। অভিযোগে সে বিয়ে ও পরবর্তী নির্যাতনের পুরো ঘটনার কথা পুলিশকে জানায়। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ ওই রাতেই অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, নাবালিকার মা প্রথমে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ধৃতদের চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হলে আদালতে তোলা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্যবিবাহ রোধে ধারাবাহিক প্রচার ও সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হলেও এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


