বন্ধ থানার গেট। বাইরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। আর থানার চার দেওয়ালের বাইরে চেয়ার-টেবিল পেতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন ভাঙড় ডিভিশনের ডিসি শিবপ্রসাদ পাত্র। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভাঙড়ে। বিরোধীদের প্রশ্ন, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে থাকা শওকত মোল্লাকে কি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে? রাজ্যে পালাবদলের পর ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। পরে একটি ধর্ষণ মামলায় জীবনতলা থানার পুলিশও তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এবার ভাঙড়ে তোলাবাজি ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগের তদন্তে শওকত মোল্লাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে ভাঙড় থানার পুলিশ। বারুইপুর মহকুমা আদালতের নির্দেশেই এই হেফাজত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল বোদরা এলাকায় ব্যবসায়ী শেখ খুরশিদ আলমের বাড়ি ও দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় শওকত মোল্লা-সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্তেই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে তদন্তের কাজে ভাঙড় থানায় পৌঁছন ডেপুটি কমিশনার শিবপ্রসাদ পাত্র। তবে থানার ভিতরে নয়, বাইরে চেয়ার-টেবিল পেতে শওকতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায় তাঁকে।
সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এদিকে শওকত মোল্লাকে ভাঙড় থানায় রাখাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বেশিরভাগ সময় থানার গেট বন্ধ রাখা হচ্ছে। থানার সামনে জমায়েত হওয়া মানুষকেও সরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। বিরোধীদের দাবি, শওকত মোল্লাকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন তৃণমূল নেতার মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শওকত মোল্লা বা তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। চেয়ার-টেবিল পেতে প্রকাশ্যে এই জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের স্বাভাবিক তদন্ত প্রক্রিয়া, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ, তা নিয়েই এখন ভাঙড়ে জোর চর্চা।


