মুখ্য নির্বাচন কমিশনার(সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের সরকারি সফর এবং তাতে ব্যয় হওয়া সরকারি তহবিলের বিস্তারিত তথ্য জানার অধিকার(আরটিআই) আইনের আওতায় প্রকাশ করতে অস্বীকার করল নির্বাচন কমিশন। এই সফর ও খরচের বিশদকে ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ বলে কমিশন তথ্য দিতে অস্বীকার করেছে বলে শুক্রবার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে। গোখলে জানান, গত ১৮ জুন একটি আরটিআই আবেদন দাখিল করে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দেশ ও বিদেশে মোট কতগুলি সরকারি সফর করেছেন।
একই সঙ্গে প্রতিটি সফরের তারিখ, গন্তব্য, উদ্দেশ্য, যাতায়াতের মাধ্যম, সরকারি খরচে তাঁর সফরসঙ্গী হওয়া আধিকারিকদের বিবরণ এবং যাতায়াত, থাকা, দৈনিক ভাতা ও স্থানীয় পরিবহণ বাবদ ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ খরচের হিসাব চাওয়া হয়েছিল। সাকেত গোখলের সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা আরটিআই-এর জবাব অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই নির্বাচন কমিশন জানায় যে, আবেদনে চাওয়া এই সংক্রান্ত তথ্যগুলি ব্যক্তিগত তথ্যের আওতাভুক্ত এবং সেই কারণে তথ্য জানার অধিকার আইন, ২০০৫-এর ধারা ৮(১)(জে) অনুযায়ী তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে গোখলে প্রশ্ন তোলেন, সরকারি তহবিল থেকে করা সরকারি সফরের ব্যয়কে কীভাবে ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে?
এমনকি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচও প্রকাশ করা হয়, তাহলে জ্ঞানেশ কুমার কোন দিক থেকে ব্যতিক্রমী? কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটিতে স্বচ্ছতার চূড়ান্ত অভাব দেখা দিয়েছে এবং জ্ঞানেশ কুমারের সফরের পেছনে জনসাধারণের ঠিক কত অর্থ খরচ করা হয়েছে তা লুকনোর চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, আরটিআই আবেদনে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে সম্পূর্ণ বা আংশিক সরকারি অর্থে হওয়া যে সমস্ত সফর ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, কেবলমাত্র তারই খরচের হিসেব চাওয়া হয়েছে; কোনো ভবিষ্যৎ সফরসূচি, তাৎক্ষণিক গতিবিধি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্পর্শকাতর বিবরণ জানতে চাওয়া হয়নি। তবে এই অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


