মুম্বইয়ে জীবনযুদ্ধের স্মৃতিচারণ বেদান্ত কর্তা অনিল আগরওয়ালের

বিহার থেকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে পকেটে সামান্য সম্বল কিন্তু বুকে বড় কিছু করার অদম্য জেদ নিয়ে মুম্বইয়ে পা রেখেছিলেন।.....

বিহার থেকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে পকেটে সামান্য সম্বল কিন্তু বুকে বড় কিছু করার অদম্য জেদ নিয়ে মুম্বইয়ে পা রেখেছিলেন। কালবাদেবী এলাকার একটি ছোট্ট ঘরে ৮ জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে থাকতেন, যার মাসিক ভাড়া ছিল মাত্র ২১ টাকা। আজ হাজার হাজার কোটি টাকার শিল্প সাম্রাজ্যের মালিক হয়েও নিজের সেই শুরুর দিনগুলির কথা ভোলেননি বেদান্ত গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে এক আবেগঘন পোস্টে নিজের প্রথম জীবনের কঠিন লড়াই ও ব্যবসার শুরুর দিনগুলির স্মৃতিচারণ করেছেন এই শিল্পপতি। অনিল আগরওয়াল জানান, ১৯৭৫-৭৬ সাল নাগাদ কালবাদেবী চত্বরে দিনের পর দিন ঘুরে রসিকভাই নামের এক ব্যক্তির সাহায্যে একটি পুরনো বহুতলের চারতলায় মাত্র ৮ ফুট বাই ৯ ফুটের একটি ছোট ঘর অফিস হিসেবে পেয়েছিলেন। সেই ছোট্ট ঘরে মাত্র তিনজন কাজ করতেন এবং নিজস্ব কোনো টেলিফোন সংযোগও ছিল না। পাশের রাজকুমারজি নামের এক ব্যক্তির টেলিফোনে তাঁর ফোন আসত। অনিলবাবু স্মৃতি রোমন্থন করে লেখেন, “টেলিফোনে দু’বার রিং হয়ে কেটে যেত, আর আমি সিঁড়ি দিয়ে ছুটে নিচে নামতাম কথা বলতে। আজও মনে হয়, ওটা শুধু ফোনের রিং ছিল না, ওটা ছিল আমার স্বপ্নের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।”

 

সেই ছোট অফিস থেকেই কেবল কোম্পানিগুলির সঙ্গে আলোচনা, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক এবং ব্যবসা পরিচালনার বাস্তব পাঠ শিখেছিলেন তিনি, যা কোনো এমবিএ-র পাঠ্যবইয়ে পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন বেদান্ত কর্তা। থাকার জায়গার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, কালবাদেভীর কটন এক্সচেঞ্জের কাছে সাতজনের সঙ্গে একটি ঘর ভাগ করে থাকতেন এবং মাসে মাত্র ২১ টাকা ভাড়া দিতেন। জীবনের বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসা এই ধনকুবের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে লেখেন, “সেই ৮ ফুট বাই ৯ ফুটের ঘরটাই আমাকে শিখিয়েছিল… বড় স্বপ্ন দেখো, কঠোর পরিশ্রম করো।”

আরও পড়ুন