যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবিভিপি-র আন্দোলন পরিচালনাকারী এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ১২ বছর পুরনো এক শ্লীলতাহানির মামলার অভিযোগ ঘিরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবিভিপি-র নেতৃত্ব দেওয়া ৩৩ বছর বয়সি ওই পিএইচডি গবেষকের নাম নিখিল দাস। ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে তিনি বেশ কিছুদিন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন।
নিখিল দাস বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণারত। বৃহস্পতিবার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে নিখিল দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং জাতীয়তাবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণেই তাঁকে ফাঁসানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি তৃণমূল ও নকশালপন্থী উভয় রাজনীতিরই বিরোধী ছিলাম, তাই আমাকে টার্গেট করা হয়েছিল। বেশ কয়েকদিন জেলে কাটাতে হয়েছিল। অভিযোগের সারবত্তা থাকলে আমি মুক্ত থাকতাম না। আমি যাদবপুর থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে এখন পিএইচডি করছি। পুরনো অভিযোগ সামনে এনে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও দাবি করেন যে আলিপুর আদালত এই মামলা খারিজ করে দিয়েছিল, যদিও পুলিশ সূত্রে তাঁর বেকসুর খালাসের বিষয়ে তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উৎসব চলাকালীন নীতিপুলিশগিরির নামে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও তাঁর বন্ধুকে মারধরের অভিযোগ ওঠে, যার জেরে নিখিল দাস ও অন্য একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই ঘটনাই পরবর্তীতে ক্যাম্পাস চত্বরে ঐতিহাসিক ‘হোক কলরব’ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বাসিন্দা নিখিল নির্মাণ ক্ষেত্রেও দু’বছর কাজ করেছেন। এদিকে গত ১৯ জুলাই এক সমাজমাধ্যম পোস্টে নিখিল লিখেছিলেন, “যারা ভাবেন যাদবপুর তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি, তাঁদের সময় শেষ হয়ে আসছে।” একই সঙ্গে যাদবপুর ক্যাম্পাসকে নকশালবাদের আঁতুড়ঘর আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন যে নতুন পড়ুয়াদের সেখানে মগজধোলাই করা হয় এবং যেকোনো মূল্যে তা বন্ধ করা হবে।
ক্যাম্পাসের এই সংঘাতের মধ্যে অপর এক এবিভিপি নেতা সংবাদমাধ্যমে হুমকি দিয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বর্ণিত ‘দিমাগী নকশালদের’ নির্মূল করতে যাদবপুরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানো হবে। সমাজমাধ্যমে নিখিল দাসের পুরনো মামলার প্রসঙ্গ ভাইরাল হওয়ার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবিভিপি ইউনিট এই আক্রমণকে ‘জাতিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সংগঠনটির দাবি, সামাজিক অনগ্রসর স্তর থেকে উঠে আসা ছাত্ররা এবিভিপি-র সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তাঁদের নিশানা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ভিডিও প্রকাশ করে নিখিল দাস অভিযোগ তোলেন যে, সহ-পড়ুয়াদের বাঁচাতে গিয়ে তিনি ও অন্য এবিভিপি কর্মীরাই ক্যাম্পাসে মারধরের শিকার হয়েছেন।


