জুলাই ও আগস্টের প্রথমার্ধে বর্ষার বৃষ্টি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দেশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে অনাবৃষ্টির সংকট কাটেনি। খারিফ মরশুমের শুরুতে কেন্দ্রীয় সরকার দুর্বল বর্ষার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে যে ২৬২টি সংবেদনশীল জেলাকে চিহ্নিত করেছিল, তার প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশ এখনও তীব্র বৃষ্টির ঘাটতির মুখে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক এবং ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হিন্দুস্তান টাইমসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ২৬২টি জেলার মধ্যে ১১৭টি জেলাতেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কম বা ঘাটতির তালিকায় রয়েছে। ফলে যে সমস্ত অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থা সীমিত এবং কৃষিকাজ পুরোপুরি বৃষ্টির জলের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে ফসলের উৎপাদন নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় বৃষ্টিপাত ২০ থেকে ৫৯ শতাংশ কম হলে তাকে ঘাটতি এবং ৬০ থেকে ৯৯ শতাংশ কম হলে তাকে চরম ঘাটতি হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের (এলপিএ) তুলনায় ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা জুনের শেষে ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে আগস্টে এই উন্নতির গতি মন্থর হয়ে পড়েছে।
বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করে মরশুমে মোট বৃষ্টিপাত এলপিএ-র ৮৫ শতাংশে নেমে আসার কথা জানিয়েছে এবং দেশে খরার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিছক সার্বিক বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান দেখে ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না; কারণ বৃষ্টিপাতের সময় ও বণ্টন ফসলের ফলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো জেলায় নির্দিষ্ট কয়েক দিনে অতিবৃষ্টি হয়ে যদি দীর্ঘ শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তা ডালশস্য ও তৈলবীজের মতো আর্দ্রতা-সংবেদনশীল ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। বিশেষ করে ধান রোয়ার সময় এবং শীষ আসার মুহূর্তে বৃষ্টির অভাব ফলনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
ওড়িশার নবরঙ্গপুর জেলায় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ শতাংশ কম হওয়ায় সেখানকার অনগ্রসর সেচব্যবস্থায় ধানের ক্ষতি হচ্ছে। একইভাবে কর্নাটক, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলায় (-২০ শতাংশ) পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে অড়হর, কলাই ও মুগ ডালের ফলন মার খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গুজরাটের দেবভূমি দ্বারকায় চিনাবাদামের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বৃষ্টির ঘাটতি পৌঁছেছে ৮৬ শতাংশে। ঝাড়খণ্ডের কোডারমা (-৪৯ শতাংশ) ও হাজারিবাগে (-৩২ শতাংশ) ভুট্টা এবং দানাশস্যের চাষ বিপন্ন। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় ২৯ শতাংশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রী সত্যসাঁই জেলায় ৩৬ শতাংশ ঘাটতি থাকায় বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল এই সমস্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও সেচের অভাবে কঠিন সঙ্কটের মুখে পড়েছেন।


