পাহাড় সমস্যার ‘স্থায়ী সমাধানের’ লক্ষ্যে বৈঠক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তর বঙ্গের নির্বাচনে প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত.....

২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তর বঙ্গের নির্বাচনে প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবেন তিনি। বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রথম বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার ঠিক পরেই উত্তরবঙ্গ সফরে এসে এবারে তাই পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার জন্য বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর অমিত শাহের এই পদক্ষেপে যথেষ্ট খুশি গোর্খা জন মুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং। আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করে দিলেন তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি। সমস্যা সমাধানে কেন্দ্র রাজ্য এবং মোর্চা-সহ আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে উঠে আসল একাধিক সমাধানের ইঙ্গিত।

 

পুনরায় নিয়োগ করা হচ্ছে মধ্যস্ততাকারী প্রাক্তন আইএএস পঙ্কজ কুমার সিংকে৷ মধ্যস্ততাকারীর তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা কমিটি পাহাড় তরাই ডুয়ার্স ঘুরে রিপোর্ট জমা দেবে স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে। দীর্ঘদিনের দাবিকে সামনে রেখে যে আন্দোলন সংগঠিত তার সমাধানে প্রথম বৈঠক শেষে খুশি বিমল-সহ মন ঘিসিংরা। উত্তরবঙ্গ সফরের শেষ লগ্নে পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে বৈঠক সারলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ পাহাড়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং, রোশন গিরি, জিএনএলএফ সুপ্রিমো মন ঘিসিং-সহ অন্যান্য নেতারা।

 

যে স্থায়ী সমাধানকে কেন্দ্র করে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দাবি উঠছিল দীর্ঘ বছর ধরে কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠার পরে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে জোর স্বরাষ্ট্র দপ্তরের। উত্তরবঙ্গ সফরের শেষ দিনে সেই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ ম্যারাথন বৈঠক শেষে খুশি পাহাড়ের নেতার৷ অন্তত পক্ষে স্থায়ী সমস্যা সমাধানের লক্ষে প্রথম ধাপ উত্তীর্ণ। শনিবার ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হল শিলিগুড়িতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে তৈরি হল নতুন কমিটি। যার মাথায় মধ্যস্থতাকারী হিসাবে রাখা হল প্রাক্তন বিএসএফ প্রধান পঙ্কজকুমার সিংহকে। গত বিধানসভা ভোটের আগেও প্রাক্তন ওই আইএএস আধিকারিককে সাময়িক ভাবে ওই দায়িত্বে রাখা হয়েছিল। সরকারি সূত্রে খবর, মধ্যস্থতাকারীর তত্ত্বাবধানে ওই নতুন কমিটি পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্স ঘুরে রিপোর্ট জমা করবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে।

 

তৃণমূল সরকারের আমলে পাহাড়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে সহযোগিতা করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছিল জিটিএ-এর তৎকালীন চিফ এগজ়িকিউটিভ অনীত থাপার দিকে। আবার সেই মধ্যস্থতাকারীকেই নিয়োগ করলেন শাহ। সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রাক্তন আইএএস পঙ্কজের নেতৃত্বে পাহাড়ের বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সর্বোপরি পাহাড়ের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে। তাদের সকলের দাবিদাওয়া, সুবিধা-অসুবিধার রিপোর্ট জমা পড়বে শাহের মন্ত্রকে। শুক্রবার বৈঠক শেষে দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, ‘গোর্খাদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব তাঁদের মনের কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীও নিজের বক্তব্য পেশ করেছেন।

 

সবটা শুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমাধানের রাস্তা বলেছেন। মধ্যস্তকারী পঙ্কজকুমার সিংহের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি কমিটি গঠন করেছে। গোর্খারা যে আশা নিয়ে এতদিন লড়ছেন, তার থেকেও আরও বড় কিছু পাবেন।’ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সম্পাদক রোশন বলেন, ‘যা সমাধান হবে, সেটা সাংবিধানিক ভাবেই হবে। মধ্যস্থতাকারীর তত্ত্বাবধানে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। যাতে সাধারণ মানুষের দাবিদাওয়া নিয়ে একটি রিপোর্ট নিয়মিত ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হবে।’ একই কথা বলছেন রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তাঁর কথায়, ‘গোর্খাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে খুব ভাল বৈঠক হয়েছে। গোর্খাল্যান্ড ইস্যু নিয়ে যে সমাধান আমরা চাই, তার কাজ শুরু হয়ে গেল।’

আরও পড়ুন