হিমালয়ের কোলে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও হড়পা বানের জেরে সৃষ্ট নজিরবিহীন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫০-এ এবং নিখোঁজ প্রায় তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি মেনে সবার প্রথমে বন্ধুরাষ্ট্র নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ২৬ অগস্ট থেকে শুরু করে ভারতীয় বিমানবাহিনীর চারটি বিশেষ সামরিক বিমানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৬৮.৫ টনেরও বেশি জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে কাঠমাণ্ডুতে। দুর্যোগের পরপরই ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ২৬ অগস্ট ভারতীয় বিমানবাহিনীর সি-১৩০জে হারকিউলিস বিমানে ১০ টন জরুরি সামগ্রী পাঠানো হয়েছিল। এরপর ২৭ অগস্ট সি-১৭ গ্লোবমাস্টারে তাঁবু, ওষুধ ও জেনারেটর-সহ ৩৭.৫ টন ত্রাণ পৌঁছায়।
২৮ অগস্ট সেনা টানেল রেসকিউ টিম ও চিকিৎসকদের পাশাপাশি আরও ১০ টন সামগ্রী যায়। রবিবার সকালে পৌঁছানো চতুর্থ বিমানে ১১ টন সামগ্রীর সঙ্গে পাঠানো হয়েছে বিশেষ টানেল টেকনিক্যাল দল, অত্যাধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল। এছাড়া নদী পারাপারের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে ১৬টি ট্রাকে করে ২৩০ ফুটের একটি সিঙ্গেল-লেন মডুলার স্টিল ব্রিজ তৈরির সরঞ্জামও স্থলপথে নেপালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহল ও বিভিন্ন দেশও নেপালের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে : চীন : বিমানবাহিনীর দুটি ওয়াই-২০ বিমানে ৫০ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে এবং পাঁচজন টানেল বিশেষজ্ঞকে মোতায়েন করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি(ইউএই) : দেশটির এইড এজেন্সির মাধ্যমে ১০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ করেছে।
ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া : ব্রিটেন ৫ মিলিয়ন পাউন্ড এবং অস্ট্রেলিয়া খাদ্য ও স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য ৫ মিলিয়ন ডলার সাহায্য প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। আমেরিকা ও কানাডা : জরুরি খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য আমেরিকা ৩.৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং কানাডা ৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মানবিক সহায়তা মঞ্জুর করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা : বিশ্বব্যাংক প্রায় ১৬৩.৬ মিলিয়ন ডলার(২৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি) পর্যন্ত জরুরি তহবিল দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের ‘সার্ফ’ তহবিল থেকে ২.৫ মিলিয়ন ডলার ছাড় করা হয়েছে। হিমালয়ের নদী অববাহিকায় উদ্ধারকাজে এখনও নেপাল সেনা, পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল কাদামাটি সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে এখন পুরোদমে চলছে ত্রাণ বণ্টন ও উদ্ধার অভিযান।


