বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

যাদের সাবধান হওয়া দরকার, এখনই সাবধান হয়ে যান’। তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষিতে এভাবেই রাজ্য জুড়ে বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি.....

যাদের সাবধান হওয়া দরকার, এখনই সাবধান হয়ে যান’। তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষিতে এভাবেই রাজ্য জুড়ে বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিলজলার সেই অবৈধ চামড়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে তিনি একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন, যাদের বুধবার সকাল ১১টার মধ্যেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী রীতিমতো বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এই ধরণের ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক ‘অশনি সংকেত’।

 

ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফরেন্সিক দল৷ বুধবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন তিলজলার ঘটনায় সরকারের কড়া মনোভাবের কথা সুস্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘গতকাল(মঙ্গলবার) তিলজলা থানায় যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দু’জন মারা গিয়েছিলেন৷ গতকালই আমরা চারটি দফতরের সমন্বয় কমিটি তৈরি করেছিলাম, সেই কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলেছিলাম’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, যে রিপোর্ট তিনি পেয়েছেন তাতে অশনি সংকেত দেখা গিয়েছে৷ শুভেন্দু বলেন, ‘বিল্ডিংটা অবৈধ বিল্ডিং, কোনও ফায়ার এনওসি ছিল না। আমরা কতগুলো পদক্ষেপ করেছি। কারখানার মালিক সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

 

বিদ্যুৎ দফতর মারফত সিইএসসি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাদের বিল্ডিং প্ল্যানে অনুমোদন নেই, তাদের অডিট করে বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দিতে’। শুধু বিদ্যুৎই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের সচিবকে বলে দেওয়া হচ্ছে জলের লাইন বন্ধ করতে। আমরা এটায় জিরো টলারেন্স নিয়েছি। এখনও সময় আছে সতর্ক হয়ে যান। কসবা, মোমিনপুর, তিলজলা, তপসিয়া, মোমিনপুরে বেআইনি অনেক কারখানা আছে’। প্রসঙ্গত, সোমবার তিলজলার টালিখোলা মসজিদের কাছে আগুন ধরে যায়। দুপুর ১টা বেজে ৪৫ মিনিট নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। পাঁচতলা বাড়ির একটি কারখানায় আগুন ধরে যায়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। ঘটনায় কয়েকজন পাঁচ জন আহত হয়েছেন বলে খবর।

 

জানা যাচ্ছে ভয়ে সকলেই তাঁরা বাড়ির বাথরুমে লুকিয়ে ছিলেন। পরে উদ্ধার করে তাঁদের চিকিৎসার জন্য চিত্তরঞ্জন হাসপতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এরা আগে আক্রা-সন্তোষপুর এলাকায় আগুন ধরে গিয়েছিল একটি ঘিঞ্জি বস্তিতে। ঠিক ভোটের আগে-আগে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক অনুমান ছিল, শর্ট-সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। দমকলকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু ঘণ্টাখানেক কেটে যাওয়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে, প্রথমে সাধারণ মানুষই আগুন নেভাতে কাজ করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে বজবজ-শিয়ালদহ ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পুড়ে যায় ওভারহেট তার। তাতেও আহত হয় একজন।

আরও পড়ুন