সীমান্ত সুরক্ষা খতিয়ে দেখতে বাংলায় আসছেন শাহ

বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে লক্ষ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী বাংলায় ঢুকে পড়ে বাংলা তথা গোটা দেশের জনবিন্যাস বদলে দিয়েছে.....

বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে লক্ষ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী বাংলায় ঢুকে পড়ে বাংলা তথা গোটা দেশের জনবিন্যাস বদলে দিয়েছে বলে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে বারে বারে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাই বাংলায় সব হিন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যেই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার শুরু হয়ে গিয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে বহু এলাকায়। অন্যদিকে গোটা দেশ থেকে মাওবাদী আতঙ্ক দূর করার পরে এবারের নেক্সট টার্গেট হিসেবে ভারতকে অনুপ্রবেশ কারী মুক্ত করার জন্য ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই লক্ষ্যই এবারে বাংলা সহ দেশের যে সমস্ত রাজ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে সেই সীমান্ত পরিদর্শনে প্রেরণা শুরু করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

আগামী জুন মাসেই বাংলায় এসে বাংলার আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি। আগামী ১৫ জুন রাজ্যে আসার কথা তাঁর। বাংলার সীমান্ত পরিস্থিতি এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে রেখেই এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কেন্দ্রের তরফে আগেই স্পষ্ট করা হয়েছিল, অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় তাদের নীতি ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’। অর্থাৎ, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা, নথি বাতিল করা এবং দেশ থেকে ফেরত পাঠানো— এই তিন ধাপেই এগোতে চায় কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও একাধিক সভা থেকে দাবি করেছিলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশমুক্ত রাজ্য গড়ার কাজ জোরদার হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আজ থেকেই শুরু হচ্ছে অমিত শাহের সীমান্ত সফর। প্রথমে তিনি যাচ্ছেন রাজস্থানের বিকানেরে।

 

সেখানে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন তিনি। শুধু তাই নয়, সীমান্ত লাগোয়া পাঁচ জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, বিএসএফ আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকও করবেন। সীমান্তে নজরদারি আরও কড়া করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোই সেই বৈঠকের মূল লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে। এর পরের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য পশ্চিমবঙ্গ। সূত্রের খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি বিএসএফ পোস্টে যেতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। একইসঙ্গে সীমান্ত লাগোয়া জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ, বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন