লেকটাউন ফুটব্রিজের কাছে বসানো মেসির মূর্তি হাওয়ায় দুলতে দেখা গিয়েছিল গত কাল অর্থাৎ সোমবার। সেই ঘটনায় সাধারণ মানুষ খবর দেন স্থানীয় থানায়। এরপরে পূর্ত দফতরের কর্মীরা এসে তা মেরামত করেন। এই মূর্তি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে মেসি সফরের সময় বসানো হয়েছিল। এবারে এই বিষয়টি নিয়ে বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র ব্যঙ্গ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
তিনি বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের ভিত নড়ে গেল তো! মেসিও নড়ে গেল। মেসির ঘটনার পরে আজ পর্যন্ত যারা প্র্যাকটিস করতেন সেটাও বন্ধ রয়েছে। বাপের সম্পত্তি হয়ে গেছে! যা ইচ্ছা লুট কর খাও। যে কটা লোক এর সঙ্গে যুক্ত আছে সে প্রাক্তন মন্ত্রী হোক কাউকে ছাড়া হবে না। যেভাবে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে, ধোঁকা দেওয়া হয়েছে লুট করা হয়েছে। পরিবারের লোকদের এনে ছবি তোলা হয়েছে যেন ফ্যামিলি প্রোগ্রাম বার্থডে পার্টি! মেসির মতো আন্তর্জাতিক প্লেয়ার, যেভাবে তার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে এটা লজ্জার। সেজন্য সবাই সাজা পাবে।’ তিনি রোজই ইকোপার্কে মর্নিংওয়াকে বেরোন আর এই প্রাতঃভ্রমণের মাঝেই সেরে নেন জনসংযোগ। এই মর্নিংওয়াকের সময়েই একের পর এক নানা বিষয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপির দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ। গতকাল অর্থাৎ সোমবার রাতেই ইকোপার্ক থানায় আটক হয়েছেন স্বপন কামিল্যা খুনে অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ।
সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশান্ত বর্মনকে ধরিয়ে দিয়েছে আম আদমি বা সাধারণ মানুষই। পুলিশ তো কাউকেই খুঁজে পায় না। তাদের সঙ্গে সন্ধ্যেবেলা বসে খায়, আর বলে খুঁজে পাচ্ছি না। সব জায়গায়, শুধু এখানে নয় মেদিনীপুরেও। পুলিশের অভ্যাস পাল্টাতে হবে না হলে পাবলিক পাল্টে দেবে। শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন জায়গায়। পুলিশের এ ধরনের বদ অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। মিথ্যা কথা বলা, নেতাদের সঙ্গে গা ঘষাঘষি করে চলা, চোর ডাকাতদের সঙ্গে শেয়ার করা। এগুলো পাল্টাতে হবে পাবলিক যেভাবে অ্যগ্রেসিভ হয়ে বেরিয়ে আসছে, এরপর কে বাঁচাবে? পুলিশ লোককে বাঁচাবে? পুলিশকে কে বাঁচাবে পুলিশের সাবধান হওয়া উচিত।’
একের পর এক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যা ঘটনা ঘটছে সাধারণ মানুষ ক্ষেপে যাচ্ছে, কারণ এতদিন ধরে পুলিশ যে ব্যবহার করেছে। পুলিশ নিজের দায়িত্ব পালন করুক। নাহলে জনরোষ এমন ভাবে হবে যে কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না।’
এরপরেই স্বপন কামিল্যা খুনে প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেন সেই বিষয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আপনারা বুঝতে পেরেছেন কেন এই আধিকারিকরা বিগড়েছে? সে ওসি হোক, আইসি হোক, বিডিও হোক এসডিও হোক! এরা কেন বিগড়েছে। এদের খারাপ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ধীরে ধীরে সেটা স্বাভাবিক মনে করেছে। বেআইনিটাকে আইন মনে করা, নিজের অধিকার ফলিয়ে সবটা নেওয়া। এখন তো অন্তত ঠিক হওয়া উচিত। না হলে এদের সবকটাকে গ্যারেজ করতে হবে, অথবা আইনের হাতে দিতে হবে।’


