রাজ্যের প্রশাসনিক স্নায়ুকেন্দ্রের ভেতরেই হঠাৎ নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার অন্ধকার। বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণ শাখার পাঁচ অস্থায়ী কর্মীকে আচমকা কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নবান্নের অন্দর এখন চাপা উদ্বেগে থমথমে। কোনও আগাম সতর্কতা নয়, কোনও ব্যাখ্যাও নয়— একদিনের মধ্যে জীবিকা হারানোর এই ঘটনায় ক্ষোভের পাশাপাশি ভয়ও ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মধ্যে।
ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাতও দ্রুত স্পষ্ট হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের এক প্রভাবশালী নেতা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনের হৃদয়স্থলেই যদি শ্রমজীবী মানুষের ন্যূনতম নিরাপত্তা না থাকে, তবে রাজ্যের বাকি অংশে কর্মপরিবেশ কতটা সুরক্ষিত? তাঁর অভিযোগ, কর্মীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা শুধু অমানবিক নয়, শ্রমনীতির মৌলিক চেতনারও পরিপন্থী।
নবান্নের এক কর্মী, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, বললেন, ‘আজ পাঁচ জন গেছেন, কাল হয়তো আরও অনেকে যাবেন। এখানে এখন সবাই আতঙ্কে কাজ করছে’। এই আতঙ্কই এখন করিডর থেকে ক্যান্টিন— সর্বত্র আলোচনার বিষয়। বহু কর্মীর আশঙ্কা, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের নামে ধাপে ধাপে আরও ছাঁটাই হতে পারে। তবে ঘটনাটিকে নিছক কর্মী বদল বলে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ভোট-পরবর্তী প্রশাসনিক কাঠামোয় ‘কঠোরতা’ দেখানোর যে প্রবণতা নতুন সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, এই ঘটনাও তারই প্রতিফলন হতে পারে।
আবার অন্য অংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী কর্মীদের উপর নির্ভরশীল প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিতর জমে থাকা অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে উঠে আসছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক জায়গায়, যেখান থেকে রাজ্যের শ্রমনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার বার্তা নির্ধারিত হয়। ফলে পাঁচ কর্মীর চাকরি হারানো এখন আর শুধুই ব্যক্তিগত বিপর্যয় নয়; এটি প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং শ্রমিক সুরক্ষার বৃহত্তর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। নবান্ন এখন অপেক্ষায়— সরকার কি এই ক্ষোভকে গুরুত্ব দেবে, নাকি ছাঁটাইয়ের এই ছায়াই আগামী দিনে আরও দীর্ঘ হবে?


