পুরুলিয়া পুরসভায় আপাতত নির্বাচনের সম্ভাবনা দূরে সরল। রাজ্য সরকারের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুরুলিয়া সদর মহকুমা শাসক (এসডিও)-এর পুরুলিয়া পুরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ আরও ১২ মাস বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী এক বছরও নির্বাচিত পুরবোর্ডের পরিবর্তে প্রশাসকের হাতেই পুরসভার সমস্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরের (মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স ব্রাঞ্চ) পক্ষ থেকে ১২ জুন, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইন, ১৯৯৩-এর ৪৩১ ধারার ২ নম্বর উপধারা অনুযায়ী গত ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে পুরুলিয়া পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলরস ভেঙে দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে পুরুলিয়া সদর মহকুমা শাসককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল ছয় মাসের জন্য। আইন অনুযায়ী, পুরসভা ভেঙে দেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরুলিয়া পুরসভার নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান অনুযায়ী প্রশাসকের মেয়াদ আরও ১২ মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৬ জুন, ২০২৬ থেকে এই বর্ধিত মেয়াদ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বোচ্চ আরও এক বছর পুরুলিয়া সদর মহকুমা শাসক প্রশাসক হিসেবে পুরসভার ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরুলিয়া পুরসভায় কবে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে দীর্ঘ সময় প্রশাসকের মাধ্যমে পুরসভা পরিচালিত হওয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদিও প্রশাসনিক মহলের দাবি, নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশের অনুলিপি রাজ্য নির্বাচন কমিশন, পুরুলিয়ার জেলাশাসক, পুরুলিয়া পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ফলে স্পষ্ট যে, আপাতত পুরুলিয়া পুরসভার প্রশাসনিক রাশ নির্বাচিত বোর্ডের হাতে নয়, প্রশাসকের হাতেই থাকছে।


