ফলতা সফর সেরে ফেরার পথে আচমকাই ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি) অফিসে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি ফলতায় ঘটে যাওয়া একটি অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে এই বৈঠক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উক্ত বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি), এডিজি (সাউথ বেঙ্গল) এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক থেকে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি, আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলা রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে যুবপ্রজন্ম, সরকারি কর্মচারী ও কৃষকদের জন্য বড়সড় চমক ও সুখবরের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুলিশকে কড়া বার্তা: “রাজনীতি চলবে না, অ্যাকশন হবে অ্যাকশনের মতোই”
সূত্রের খবর, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি অফিসে আয়োজিত এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও কঠোরহস্তে কাজ করার নির্দেশ দেন। ফলতার সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “ফলতায় যে ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনায় পুলিশ চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। পুলিশকে দ্রুত ও কঠোর অ্যাকশন নিতে হবে। এবং সেই অ্যাকশনটা যেন প্রকৃত অ্যাকশনের মতোই হয়।”
একই সঙ্গে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুলিশের নামে কোনো রকম রাজনীতি এখানে বরদাস্ত করা হবে না। এটা আপনারা স্পষ্টভাবে জেনে রাখুন।” ডায়মন্ড হারবার ও সংলগ্ন এলাকায় রাতের পুলিশিং বা নৈশ টহলদারির ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিশেষত নারী সুরক্ষার বিষয়টি যাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ দেন যে, এলাকা থেকে আসা সমস্ত অভিযোগ যেন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হয়। কোনো অভিযোগ বা সমস্যা নিয়ে জেলা পুলিশের স্তরে কোনো প্রশ্ন বা জটিলতা তৈরি হলে, তা যেন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে (CMO) পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
২২ জুনের বাজেটে বড় ঘোষণা: নজরে যুবসমাজ, কর্মচারী ও কৃষক
প্রশাসনিক বৈঠকের আগে এদিন ফলতায় একটি সরকারি জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি রাজ্যের আগামী আর্থিক বাজেট নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। আগামী ২২ জুন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং একাধিক বড় ঘোষণার সাক্ষী হতে চলেছে।
ফলতার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বাজেটে মূলত তিনটি স্তরের মানুষের জন্য বড় সুখবর থাকছে— যুবক বা কর্মপ্রার্থীরা, রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং রাজ্যের কৃষক সমাজ। তিনি বলেন, “২২ জুন রাজ্য বাজেট আছে। সেখানে যুবকদের জন্য নতুন নিয়োগ নিয়ে, কর্মচারীদের জন্য এবং কৃষকদের কল্যাণের জন্য আমরা বিশেষ কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নিতে চলেছি।”
স্বচ্ছ নিয়োগ ও বকেয়া ডিএ মেটানোর আশ্বাস
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল রাজ্য সরকারি দপ্তরের সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করা। সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আসছেন। মনে করা হচ্ছে, এই বাজেটে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও তহবিল ঘোষণা করা হতে পারে, যা রাজ্যের যুবসমাজের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে।
পাশাপাশি, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানোর বিষয়েও রাজ্য সরকার ইতিবাচক আলোচনা শুরু করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমনে বাজেটে ডিএ সংক্রান্ত বড় কোনো আর্থিক প্যাকেজ বা ঘোষণা থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, রাজ্যের কৃষকদের আর্থিক স্বস্তি দিতে এবং কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়নেও বিশেষ কৃষক-বান্ধব প্রকল্পের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং জনমুখী বাজেটের এই জোড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন যে, তাঁর সরকার যেমন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করবে না, ঠিক তেমনই রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি পূরণেও সমান গতিতে এগিয়ে চলবে। ২২ জুনের বাজেটের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।


