কালিয়াচক মাদক পাচার

মালদা, বিশ্বজিৎ মন্ডল; ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মালদহের কালিয়াচকে এবার মাদক পাচার ও একাধিক অপরাধমূলক খতিয়ানে নাম জড়িয়ে গ্রেপ্তার হলেন এক প্রভাবশালী.....

মালদা, বিশ্বজিৎ মন্ডল; ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মালদহের কালিয়াচকে এবার মাদক পাচার ও একাধিক অপরাধমূলক খতিয়ানে নাম জড়িয়ে গ্রেপ্তার হলেন এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা কুখ্যাত দুষ্কৃতি বকুল শেখ। সোমবার গভীর রাতে কালিয়াচক থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বড় মাপের টিম নিয়ে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় নওদা যদুপুর অঞ্চল কমিটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক তথা তৃণমূল নেতা বকুল শেখকে। মঙ্গলবার দুপুরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ধৃত তৃণমূল নেতাকে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর। পুলিশের দাবি , এই অভিযোগের তদন্ত করতে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।সীমান্তে মে মাসের ফেনসিডিল পাচার কাণ্ডে নাম জড়ায় বকুলের

 

কালিয়াচক থানা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপারে পাচারের আগেই কালিয়াচকের একটি গোপন ডেরা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ‘ফেনসিডিল’ কাফ সিরাপ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই চক্রের মাস্টারমাইন্ডদের খোঁজ চালাতে গিয়েই উঠে আসে নওদা যদুপুর অঞ্চলের এই দাপুটে তৃণমূল নেতা বকুল শেখের নাম। এই বকুল ই নাকি পাচার চক্রের মাস্টার মাইন্ড। সোমবার রাতে তিনি গোপনে নিজের বাড়ি ফিরেছেন এই খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ যদুপুরের বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। পাচার ছাড়াও স্কুলের লকার ভেঙে থাকা চুরি করা থেকে শুরু করে খুন, বোমাবাজি ও এলাকা দখলের একাধিক মামলা

 

কালিয়াচক থানার তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, বকুল শেখের অপরাধের খতিয়ান শুধু মাদক পাচারেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিগত দিনে কালিয়াচকের বিস্তীর্ণ এলাকায় বোমাবাজি, এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং খুনের মতো একাধিক গুরুতর অসামাজিক ধারায় পুরনো মামলা ঝুলে রয়েছে। সেই সমস্ত পুরনো মামলার ফাইলও নতুন করে খুলে আদালতে পেশ করছে পুলিশ। আমি নির্দোষ, দাবি বকুলের মঙ্গলবার সকালে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ধৃত তৃণমূল নেতা বকুল শেখ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেন।

 

তিনি বলেন, সোমবার রাতে আমি নিজের ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিলাম। আচমকাই পুলিশ এসে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। সীমান্তে যে ফেনসিডিল পাচারের কথা বলা হচ্ছে, তার সাথে আমার দূর-দূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে।”যদিও পুলিশের দাবি, বকুল শেখের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়েই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তারের পর মালদহ জেলা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই এই গ্রেপ্তার বলে দাবি সাধারণ মানুষের।

আরও পড়ুন