২০ তারিখ ছিল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা না ঢোকায় বাড়ছে উৎকণ্ঠা। একদিকে সরকারের তরফে নতুন প্রসেসিং সিস্টেম চালুর আশ্বাস, অন্যদিকে বিধায়ক থেকে শুরু করে বিজেপির নেতা-কর্মীদের মুখে ‘সবাই টাকা পাবেন’—এই আশ্বাসেই আপাতত দিন কাটাচ্ছেন টাকা না-পাওয়া মহিলারা। কিন্তু আশ্বাসের পরেও কাটছে না আতঙ্ক, হতাশা।
এই পরিস্থিতিতেই গতকাল আরামবাগে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ও প্রশাসনিক বৈঠক করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আসার আগে এসডিও অফিসের গেটের সামনে জড়ো হয়েছিলেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না-পাওয়া একাধিক উপভোক্তা। তাঁদের দাবি ছিল একটাই—মুখ্যমন্ত্রীর কানে যেন পৌঁছয় তাঁদের আর্তনাদ। টাকা না-পাওয়ার যন্ত্রণার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতেই গেটের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তাঁদের গেটের বাইরে সরিয়ে দেয়।
কিন্তু তাতেও থামেনি ক্ষোভ। শুক্রবার ফের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না-পাওয়া উপভোক্তাদের জমায়েত ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় আরামবাগে। বিজেপির বিধায়ক সেবা কেন্দ্রে একের পর এক মহিলা ভিড় করেন। অভিযোগ ও ক্ষোভ জানাতে গিয়ে একসময় সেবা কেন্দ্রের ভিতরেও ঢুকে পড়েন তাঁরা। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সেবা কেন্দ্রে থাকা বিজেপির কর্মীরা উপভোক্তাদের আশ্বস্ত করে জানান, কারও কারও কাছ থেকে এখনও প্রয়োজনীয় নথি জমা পড়েনি। তাই কিছুটা সময় দিতে হবে। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় নথি ও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই সকলের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে।
এরই মধ্যে এক উপভোক্তা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর কথায়, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা তাঁদের সংসারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি সত্তর বছরের পুরনো বাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি। তাঁর আক্ষেপ, এতদিনেও একটি বাড়ি পর্যন্ত পাননি। ফলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।
দীর্ঘক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ। উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, গতকাল মুখ্যমন্ত্রী আরামবাগে এসে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—যাঁদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এখনও হয়নি, অথচ যাঁদের এডিট হয়েছে, তাঁদের ফর্ম গ্রহণ করতে হবে। সেই সমস্ত তথ্য আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে আপলোড করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিধায়কের দাবি, ২৫ তারিখের মধ্যে সকলেই টাকা পেয়ে যাবেন। তবে এর জন্য উপভোক্তাদের আরও কিছুটা সময় দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। একইসঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, মানুষের বিপদে তিনি বিধায়ক হিসেবে ছুটে যাচ্ছেন এবং সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—২০ তারিখের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কেন এখনও বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকল না? ২৫ তারিখের নতুন আশ্বাস কি সত্যিই শেষ হবে অপেক্ষার? নাকি ফের বাড়বে অনিশ্চয়তা? এখন সেই দিকেই তাকিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না-পাওয়া হাজার হাজার উপভোক্তা।


