ভোটের টানে ঝাড়গ্রামে ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী, নজর আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে

বঙ্গভোটের পারদ চড়িয়ে জঙ্গলমহলের মাটিতে পা রাখলেন ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। শনিবার ঝাড়গ্রামে হেলিকপ্টারে নেমে সরাসরি হুডখোলা জিপে বর্ণাঢ্য.....

বঙ্গভোটের পারদ চড়িয়ে জঙ্গলমহলের মাটিতে পা রাখলেন ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। শনিবার ঝাড়গ্রামে হেলিকপ্টারে নেমে সরাসরি হুডখোলা জিপে বর্ণাঢ্য রোড শোয়ে অংশ নেন তিনি। মূল লক্ষ্য, ঝাড়গ্রামের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের সমর্থনে জনমত তৈরি করা। প্রার্থীর মনোনয়ন পেশের আগে এই মেগা জনসংযোগ কর্মসূচিকে ঘিরে গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা চোখে পড়ে। আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ককে পাখির চোখ করে বিষ্ণু দেও সাইয়ের এই ঝটিকা সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রোড শো চলাকালীন সমাজমাধ্যমে নিজের পোস্টের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘রোড শোর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার জোরদার করছেন।’

শনিবার ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীরা জেলাশাসকের দফতরে তাঁদের মনোনয়ন পত্র জমা দেন। ঝাড়গ্রাম কেন্দ্র থেকে লক্ষ্মীকান্ত সাহু, নয়াগ্রাম থেকে অমিয় কিস্কু, গোপীবল্লভপুর থেকে রাজেশ মাহাতো এবং বিনপুর থেকে প্রণত টুডু এদিন মিছিল করে এসে নিজেদের প্রার্থীপদ দাখিল করেন। প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে ঝাড়গ্রামের রাজপথে পা মেলালেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করে সাই বলেন, ‘এবারের নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে এবং এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।’ সিঙ্গুর প্রসঙ্গে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, সেদিন শিল্পের বিরোধিতা না হলে আজ লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হতো। রাজ্যে নারী নিরাপত্তা ও রোজগার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টানেন। র‍্যালি শেষে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কর্মসংস্থানের অভাব এবং নারী সুরক্ষার প্রশ্নে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ভারতীয় জনতা পার্টি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর আস্থা রাখছে।’

উল্লেখ্য,ঝাড়গ্রাম, বিনপুর, নয়াগ্রাম ও গোপীবল্লভপুর— এই চার আসনেই জয়ের লক্ষ্যে মরিয়া বিজেপি। আদিবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলে ভিনরাজ্যের জনজাতীয় নেতার উপস্থিতি ভোটারদের মনে কতটা রেখাপাত করে, এখন সেটাই দেখার। শাসকদলকে চাপে রাখতে ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রচার কৌশল জঙ্গলমহলের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে দাবি পর্যবেক্ষকদের।

আরও পড়ুন