প্রচারের শেষ লগ্নে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রচার সারলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ কলকাতার এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে জনসংযোগ চলাকালীন তিনি দাবি করেন, গোটা রাজ্যে এখন ‘গেরুয়া ঝড়’ বইছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কড়া সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে তার জন্যই এই ব্যবস্থা। ৪ মে বাংলার মানুষ তৃণমূলের অপশাসন থেকে মুক্তি পাবে বলে তিনি পূর্ণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ সোমবার বিকেল থেকে আমি দেখছি তৃণমূল ভবানীপুর কেন্দ্রে হেরে গিয়েছে, তাঁর শরীরী ভাষা বলছে’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ২৭ তারিখ সন্ধের পর থেকে তৃণমূলের একটা গুন্ডাকেও বাইরে থাকতে দেবো না৷
মোদিজি আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে৷ কসবা আইন কলেজ, আরজিকর নির্যাতিতার পরিবার সবাই অপেক্ষা করে আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখন হারবেন৷ পরিযায়ী শ্রমিক, বেকাররাও আপনার হারার অপেক্ষায় রয়েছে৷ ভবানীপুরে ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গে সরকার তৈরি করছে। এটা ৮ থেকে ৮০ সবাই জেনে গেছে। আজকেও আমি সকাল থেকে অন্তত কয়েক হাজার ভবানীপুর বিধানসভার ভোটারদের সঙ্গে মিলিত হয়েছি তারা প্রত্যেকে প্রস্তুত হয়ে গেছে যে এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিসর্জন দেবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই কেন্দ্রে অনেক ভোটে হারবে’। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থীপদ খারিজের দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ করেন মামলাকারী।
প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারার উল্লেখ না থাকায় মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেন মামলাকারীর কাছে জানতে চান সংবিধানের কোন ধারায় তার প্রার্থীপদ বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন? কিন্তু মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবীরা কোন উত্তর দিতে না পারায় মামলা খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, গত ৩ এপ্রিল ভবানীপুর এবং পরে মেদিনীপুরের সভা থেকে তিনি আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। তাই আদালতে মামলাকারী দাবি করেন, এই কারণেই শুভেন্দুর প্রার্থীপদ বাতিল করা হোক। মামলাকারী কয়েকটি বক্তব্যকে উল্লেখ করে বলেন, এই ধরনের মন্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।


