আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার অথবা অন্য কোন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ভোট প্রচারের মঞ্চ থেকে বিতর্কিত মন্তব্য করার প্রেক্ষিতে অভিষেকের আবেদনের জেরে এমন নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তবে সেই সঙ্গে এক গুচ্ছ শর্ত চাপিয়ে দিয়েছেন অভিষেকের উপরে।
এফআইআর খারিজের আর্জি নাকচ করে বিচারপতি জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। ৪৮ ঘণ্টার নোটিসে তাঁকে ডেকে পাঠাতে পারবেন তদন্তকারীরা। কোন পরিস্থিতিতেই আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশযাত্রা করতে পারবেন না তিনি। নির্বাচনী প্রচারে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল এফআইআর।
বৃহস্পতিবার সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য অভিষেকের করা মন্তব্য নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। এহেন মন্তব্যের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘৪ মে নির্বাচনের ফল যদি অন্যরকম হত, তাহলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা হাতের বাইরে চলে যেতে পারত’। অভিষেকের উপর বিরক্ত হলেও তাঁকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত। এই সময়ের মধ্যে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবেনা। তবে আপাতত তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। তদন্তে তিনি সহযোগিতা না-করলে আদালতে আবেদন জানাতে পারবে পুলিশ।
একই সঙ্গে হাই কোর্টের নির্দেশ, অভিষেককে তলব করতে হলে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে পুলিশকে। আদালতের অনুমতি ছাড়া আপাতত দেশ ছাড়তে পারবেন না অভিষেক। এফআইআর খারিজের আর্জি নাকচ করে বিচারপতি জানিয়ে দেন, এই বিষয়ে তদন্ত চলবে। আগামী ২০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি। বৃহস্পতিবার অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণের উদ্দেশে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘আপনি বলছেন আপনার মক্কেল সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। তিন বারের সাংসদ। তিনি কেন এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করবেন? নির্বাচনের আগে কেন এমন করা হবে? যে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার মতো কালো ইতিহাস রয়েছে’।
কল্যাণ তাঁর সওয়ালে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতারা সভা থেকে এমন মন্তব্য করে ফেলেন’। কিন্তু এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘অন্য কারও বিষয়ে এখানে আলোচনা হচ্ছে না। আপনি আদালতে এসেছেন, তাই আপনাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে। সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক এমন মন্তব্য করবেন কেন? তাঁর কাছ থেকে কি এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য আশা করা যায়?’ প্রত্যুত্তরে কল্যাণ বলেন, ‘অপরাধ এবং আচরণ, দু’টি আলাদা বিষয়। ওই মন্তব্যের জন্য অপরাধ হয়েছে কি না দেখতে হবে।’ রাজ্যের উদ্দেশ্যে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলতেই পারে।
এ ক্ষেত্রে মামলাকারীকে কি হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে?’ রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, এই মুহূর্তে ওই মামলায় হেফাজতে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এমনকি পুলিশ গ্রেফতারের মতো কোনও পদক্ষেপ করেনি। অভিষেকের ওই মন্তব্যের জন্য ভোট-পরবর্তী হিংসার মতো ঘটনা ঘটেছে কি না, পুলিশ তার তদন্ত করছে। অভিষেকের মন্তব্যের সমালোচনা করে বিচারপতি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক হিংসার ইতিহাস অন্য কথা বলছে। তাঁর কাছ থেকে এমন মন্তব্য মানা যায় না। তিনি বিচক্ষণ মন্তব্য করবেন, এটাই তো হওয়া উচিত। গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও দল জিততে বা হারতে পারে। একজন সাংসদের কি এমন মন্তব্যের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে?’


