প্রায় ছয় দশকের নিরবচ্ছিন্ন দ্রাবিড় রাজনীতির চেনা সমীকরণ ভেঙে এক নয়া যুগের সূচনা করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। বৃহস্পতিবার রাজ্যে ৩৩ সদস্যের এক বিশাল ও সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন তিনি, যা তাঁর সরকারের তরুণ, সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘ ৫৯ বছর পর রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে এই নয়া মন্ত্রিসভায় দুটি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের ১৫ জন বিশ্বস্ত সঙ্গীও এই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।
শাসক শিবিরের অন্দরে এআইএডিএমকে বিদ্রোহীদের প্রবেশাধিকার কার্যত চিরতরে বন্ধ করে দিয়ে খুব শিগগিরই আইইউএমএল এবং ভিসিকেও এই সরকারে শামিল হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। লোক ভবনে আয়োজিত এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আড়ালে যে এক সুকৌশলী রাজনৈতিক বার্তা লুকিয়ে ছিল, তা একপ্রকার পরিষ্কার। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দলিতদের অধিকার নিয়ে ভোটের ময়দানে বিস্তর চর্চা হলেও, প্রশাসনিক স্তরে তাঁদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সচরাচর সেভাবে চোখে পড়ে না।
তবে সেই বহুদিনের প্রথা ভেঙে নিজের প্রথম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণেই সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি থেকে অন্তত সাতজন দলিত নেতাকে একেবারে সামনের সারির গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে তুলে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। একইসঙ্গে অত্যাধুনিক সময়ের চাহিদাকে মাথায় রেখে মন্ত্রিসভায় একটি পৃথক ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা এআই মন্ত্রকেরও অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে, যা তামিলনাড়ুর পুরনো ক্ষমতার ব্যাকরণকে পুরোপুরি পাল্টে দেওয়ার এক সুচিন্তিত পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


