আমাকে আটকাতে পারবেন না। ১৭৭টি আসনে ভোট লুট হয়েছে। সংবিধানের প্রতিটা শব্দ রক্ষা করব। অত্যাচার যাঁরা করছেন, যতক্ষণ না গণতান্ত্রিকভাবে এর মোকাবিলা করতে পারছি ততক্ষণ লড়াই করে যাব।’ মঙ্গলবার ধর্মতলায় বাংলার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে এভাবে খোলা চ্যালেঞ্জ করে দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘আমাদের বিধায়ক, কাউন্সিলরদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিধায়কদের পুলিশকে দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে।
আপনারা ভয় পাবেন না। দিল্লি থেকে বিজেপি সরকার কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়ার এবং দল ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, এই চেষ্টা আমরা কোনওভাবেই সফল হতে দেব না, সব চক্রান্ত বানচাল করে দেব।’ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘আমি কারও সুদিনে পাশে না-থাকলেও, দুর্দিনে সবসময় আছি। বিজেপি বাদে দেশের বাকি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। এমনকি বিজেপিরও যাঁরা অতীতে আমার সাহায্য চেয়েছেন, আমি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম’। ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে ধর্নার ডাক দিয়েছিলেন মমতা।
কিন্তু পুলিশ সেখানে অনুমতি না দিয়ে ওয়াই চ্যানেলে ধর্নার অনুমতি দেয়। মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ মমতা কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমেই পৌঁছে যান রেড রোডে। সেখানে বিআর অম্বেডকরের মূর্তিতে মালা দেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, অসীমা পাত্রেরা। তার পর সেখান থেকে সোজা চলে যান ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের ধর্নামঞ্চে। মমতার সঙ্গে ছিলেন শোভনদেব চ্যাটার্জি, নয়না ব্যানার্জি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম, অশোক দেবের মতো পুরনো তৃণমূল নেতারা। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরাও। কয়েকদিন আগে দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বেশিরভাগ বিধায়ক। তাই ধর্না কর্মসূচিতে কত লোক হবে তা নিয়ে সন্দিহান ছিল তৃণমূলে।
দলের ফেসবুক হ্যান্ডল থেকে কর্মীদের ওয়াই চ্যানেলে সমবেত হওয়ার ডাকও দেওয়া হয়েছিল। এদিন ধর্নাস্থলে মমতা পৌঁছনোর পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন কর্মী-সমর্থকরা। রাজ্য প্রশাসনকে তোপ দেগে মমতা বলেন, ‘বারবার বলা হয়েছিল যদি জায়গা পাল্টাতে হয় তাহলে আগে থেকে জানাতে। পাঁচ দিন আগে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আপনারা ওয়াই চ্যানেলে করতে বললেন। আমার কোনও অসুবিধা নেই, আমার প্রোগ্রাম করা নিয়ে হল কথা। পুলিশ ওয়াই চ্যানেলে করার অনুমতি দিয়েছে। সঙ্গে শর্ত দিয়েছে যে, সেনার অনুমতি নিতে হবে, সাউন্ডের অনুমতি নিতে হবে। অর্থাৎ, শব্দ বাজানোয় একটি নির্দিষ্ট দলের উপর নিষেধাজ্ঞা। দেখতে চাই অন্য দলকে অনুমতি দেন কি না। রানি রাসমনি রোডে, ধর্মতলায়, মেয়ো রোডে। যদি অনুমতি না দেন, তাহলে যে কোনও জায়গায় বসে পড়ব।
আমি লোক দেখিয়ে প্রোগ্রাম করি না’। গত শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া হামলার প্রসঙ্গ টেনে এদিন অত্যন্ত বিস্ফোরক দাবি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পর রক্তাক্ত অভিষেককে যখন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন চিকিৎসার ক্ষেত্রেও চরম অসহযোগিতা করা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘অভিষেককে ওই ছোট গলির ভেতর প্ল্যান করে মারা হয়েছিল। মাথায় হেলমেট না থাকলে পাথরটা সরাসরি ওর মাথায় লাগত।
আর যখন সিরিয়াস অবস্থায় ওকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, তখন বলা হচ্ছে সিইও-র অনুমতি লাগবে! আসলে নতুন সরকারের পুলিশ ওই বেসরকারি নার্সিংহোমকে থ্রেট করছিল। পরে যখন ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করা হলো, তখন হাসপাতালের সিইও স্বয়ং আমার কাছে এসে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন। আমার সঙ্গে তখন শোভন চট্টোপাধ্যায়ও ছিলেন। সিইও আমাদের বললেন— ‘মাফ করবেন, আমরা আর ওপরতলার চাপ নিতে পারছি না। আমাদের মারাত্মক ভয় দেখানো হচ্ছে’।

