রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ। ‘নব্য তৃণমূল’ নামে একটি পৃথক পরিষদীয় গোষ্ঠী গঠনের দাবি এবং একাধিক বিধায়কের অবস্থান ঘিরে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়।
সূত্রের দাবি, নতুন এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি করা হচ্ছে, তৃণমূলের একাংশের বিধায়ক তাঁর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। এই আবহে মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক বিধায়কের অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান দাবি করেছেন, জেলার ৯ জন বিধায়কের মধ্যে ৮ জন নতুন গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কথায়, “দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সমর্থনের তালিকায় রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম, সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস, সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস, ভরতপুরের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, ভগবানগোলার বিধায়ক রিয়াত হোসেন সরকার-সহ আরও কয়েকজন।
সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস বলেন, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা নেত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রেখেই রয়েছি।” একইসঙ্গে একাধিক বিধায়কও তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বলে দাবি।
অন্যদিকে, জলঙ্গির নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা শিক্ষাবিদ বাবর আলি প্রকাশ্যে দলনেত্রীর প্রতি আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “রাজনীতিতে আমার পথচলা শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেকের হাত ধরে। দলনেত্রী যাকে দায়িত্ব দেবেন, আমি তাঁর পক্ষেই থাকব।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে দলীয় স্তরে আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জল্পনা অব্যাহত থাকছে।


