: সরকারি ও সরকার অনুমোদিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বা গৃহশিক্ষকতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ — দীর্ঘদিনের এই বিধিনিষেধকে ফের কড়াভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজ্যের সমস্ত জেলা স্কুল পরিদর্শকদের বিশেষ নির্দেশিকা পাঠাল স্কুল শিক্ষা দফতর। বিকাশ ভবনের অ্যাডমিন বিভাগ থেকে জারি করা এই নির্দেশিকায় আইন লঙ্ঘনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে একটি নোটিশ পাঠায়। সেই নোটিশে অভিযোগ করা হয়, একশ্রেণির সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার অধিকার আইন ও আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে প্রাইভেট টিউশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করেই রাজ্য শিক্ষা দফতর এই নির্দেশিকা জারি করেছে বলে বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে।
মানবাধিকার কমিশনে দাখিল হওয়া অভিযোগে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগকারীর দাবি, অনেক শিক্ষক নিজের বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের তাঁদের কাছে টিউশন পড়তে বাধ্য করছেন। যারা টিউশন নেন না, তাদের পরীক্ষার খাতায় কম নম্বর দেওয়ার ভয় দেখানো বা মার্কশিটে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে শোষণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে পেশাদার গৃহশিক্ষকদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার অধিকার আইনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।
নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্ট আইনি বিধানগুলিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯-এর ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কর্মরত কোনও শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে কোনও টিউশন বা শিক্ষকতা-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির বিজ্ঞপ্তি এবং ২০১৮ সালের স্কুল শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকাতেও ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে প্রাইভেট টিউশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিকারমূলক বা অতিরিক্ত ক্লাসে শিক্ষকরা অংশ নিতে পারবেন।
রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর (অ্যাডমিন) স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকায় জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (মাধ্যমিক ও প্রাথমিক) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও অভিযোগ জমা পড়লে বা আইন ভাঙার খবর পেলে অবিলম্বে তদন্ত করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই নির্দেশিকার প্রতিলিপি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।

