পুরুলিয়ায় চলল বুলডোজার, দিশেহারা কয়েকশো পরিবার

রবিবার ছুটির দিনে পুনর্বাসনের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা ছাড়াই মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে পুরুলিয়া পৌরসভার আদালত চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান চালাল প্রশাসন।.....

রবিবার ছুটির দিনে পুনর্বাসনের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা ছাড়াই মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে পুরুলিয়া পৌরসভার আদালত চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান চালাল প্রশাসন। বুলডোজারের গর্জনে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো বহু ছোট ছোট দোকান। আর সেই সঙ্গে ভেঙে পড়ল কয়েকশো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিনের রুটি-রুজির স্বপ্ন। কেউ ফল বিক্রি করতেন, কেউ ছোট খাবারের হোটেল চালাতেন, কারও ছিল চায়ের দোকান, ঝালমুড়ির ঠেলা কিংবা মোবাইল সারাইয়ের দোকান। দিনের পর দিন তিলে তিলে গড়ে তোলা সেই সামান্য ব্যবসাই ছিল তাঁদের পরিবারের একমাত্র ভরসা।

 

উচ্ছেদের পর এখন সেই জায়গা জুড়ে শুধুই ধ্বংসস্তূপ আর হতাশা। চোখে জল নিয়ে একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল। কাল থেকে সংসার কীভাবে চলবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।’ অভিযোগ উঠেছে, উচ্ছেদের আগে পর্যাপ্ত সময় বা বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে হঠাৎ করেই কার্যত পথে বসতে হয়েছে বহু পরিবারকে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে রাস্তা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মানবিক দিক বিবেচনা করে সম্পূর্ণ উচ্ছেদের পথে হাঁটা হয়নি। তবে এবার সেই ছবিটাই বদলে গেল।

 

আদালত চত্বর ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ছোট ব্যবসাগুলিকে একদিনে সরিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। উচ্ছেদ অভিযানের সময় এলাকায় মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও পৌরসভার আধিকারিকরা। প্রশাসনের দাবি, আদালত চত্বরকে দখলমুক্ত ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে পুনর্বাসন ছাড়া এভাবে উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেইম খান ও মিঠুন দাস বলেন পৌরসভা পক্ষ থেকে ব্যবসা করার জন্য প্রতিদিন দশ টাকা করে টোকেন দিত। তাঁদের এই ব্যবসা অস্থায়ী হলেও অবৈধ নয়। তাহলে কেন পৌরসভা তাঁদের সঙ্গে বসে তাঁদের কথা না ভেবে, তাঁদের পুনর্বাসন ছাড়াই এই উচ্ছেদ অভিযান চালালো? এই প্রশ্ন এখন উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের।

আরও পড়ুন