পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তর বন্টনের তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্তের সঙ্গে আলোচনা করতে ঝটিকা সফরে দিল্লি গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতার লোকভবনে রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ৩৫ বিজেপি বিধায়ক। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট বৈঠকের আগেই তাদের দপ্তর চূড়ান্ত করার জন্য আলোচনা করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তার আগে আজ(মঙ্গলবার) সল্টলেকে জনতার দরবার অনুষ্ঠানের পরে তারকেশ্বরের মন্দিরে পুজো দেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন ধর্মতলায় ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচিকে। হাসতে-হাসতে বললেন, ‘কী দুরবস্থা! ১৫০ লোকও হয়নি’। তৃণমূল দলটা ফলতা হয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, ফলতার পুনর্নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছে তৃণমূল। শুভেন্দু সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। অভিষেক বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, ফোন করছেন বলে জানা গিয়েছে।
সেই নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘আমি তো শুনেছিলাম অসুস্থ। স্যালাইন-ট্যালাইন কী সব চলছে নাকি’। পূর্বতন সরকারের আমলে বেশ কয়েক বছর তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। এ দিন শুভেন্দু অবশ্য তাঁর নাম নেননি। তবে মন্দিরে নতুন রঙ করার কথাও জানিয়ে বলেন, ‘মন্দিরের রং সব সময়ে আধ্যাত্মিক হওয়া উচিত। সেটাই আমরা করব’। রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে রামের মূর্তি মাথায় নিয়ে গোটা তারকেশ্বর ঘুরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আজ থেকে নয়, তারকেশ্বরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক পুরোনো। শ্রীরামের মূর্তি মাথায় নিয়ে খালি পায়ে গোটা তারকেশ্বর ঘুরেছি’। অন্যদিকে বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের একাউন্টে পাঠানোর জন্য নবান্ন সভা ঘরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে আজ(মঙ্গলবার) একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘কাল(বুধবার) আমরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ট্রান্সফার করব। যারা যারা ফর্মফিলাপ করে দিয়েছেন..ট্রান্সফার কাল থেকেই হয়ে যাবে। আমরা যা বলি, ভেবেচিন্তে বলি। আর যা বলি, তাও করি। সবাই কোঅপারেশন করুক, সরকারের সঙ্গে।
যারা অনুপ্রবেশকারী, তাঁরা তো টাকা পাবে না। যারা দেশের আইন ভেঙেছেন, ভ্যাকসিন নেয় না, স্কুলে যায় না, এমন জায়গায় তাঁদের পাঠানো হয়, যাদের অন্য পন্থা অবলম্বন করে ট্রেনিং দেওয়া হয় ..ওই সমস্ত লোকরা পাবে না’। সেই সঙ্গে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে বন্দেমাতরম গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘প্রতিটা স্কুলে বন্দে মাতরম্ চালু করে দিয়েছি। গরমও এখন বেশি রয়েছে, তাই স্কুলগুলিকে অ্যাডভাইস করে জানিয়েছি যে, সকালে স্কুল করতে পারলে করুন, কোনও অসুবিধা নেই। দেশে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্ বলতে হবে। দেশে থাকতে গেলে জনগণমন অধিনায়ক বলতে হবে। দেশে থাকতে গেলে ২৬ জানুয়ারি ও ১৫ অগাস্টকে সম্মান জানাতে হবে। এটা ভারতীয় সংষ্কৃতি, সনাতন সংষ্কৃতি, ভারতের নাম হিন্দুস্থান- ইন্ডিয়াও। তাই দেশে বসবাস করতে গেলে, দেশের সংষ্কৃতি মেনে চলতে হবে’।

